ব্যাংক চেক লেখার সঠিক নিয়ম (নমুনাসহ)
ব্যাংক চেক দেখতে সাধারণ একটি কাগজের মতো হলেও এটি আসলে অর্থ পরিশোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং নির্দেশনা। তারিখ, প্রাপকের নাম, টাকার অঙ্ক কিংবা স্বাক্ষরে সামান্য ভুল থাকলেও চেক ফেরত যেতে পারে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেন, ব্যবসায়িক পরিশোধ, সম্পত্তি বা পণ্য কেনাবেচা এবং আনুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেনে চেক লেখার সময় প্রতিটি ঘর সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে আন্তঃব্যাংক চেক নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় চেক প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবস্থায় চেকের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে প্রক্রিয়া করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি অঙ্কের চেক উচ্চমূল্যের চেক ক্লিয়ারিংয়ের আওতায় পড়ে। তাই বড় অঙ্কের চেক লেখার ক্ষেত্রে তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
চেক লেখার সবচেয়ে কার্যকর নীতি হলো একবার লিখুন, তারপর তারিখ, নাম, অঙ্ক ও স্বাক্ষর আলাদাভাবে দ্বিতীয়বার যাচাই করুন। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক ফেরতের কারণগুলোর মধ্যে সংখ্যায় ও কথায় অঙ্কের অমিল, পুরোনো চেক, ভবিষ্যৎ তারিখের চেক, স্বাক্ষরের অমিল, স্বাক্ষর না থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের মতো কারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই লেখায় সাধারণ ব্যাংক চেক পূরণের নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চেক গ্রহণ, যাচাই, ক্লিয়ারিং বা অতিরিক্ত নিশ্চিতকরণের নিয়ম ব্যাংক ও হিসাবের ধরন অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বা বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
ব্যাংক চেক কী?
চেক হলো ব্যাংকে হিসাবধারীর দেওয়া লিখিত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ। এর মাধ্যমে হিসাবধারী তার ব্যাংককে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বলেন। বাংলাদেশের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ অনুযায়ী চেক একটি স্বীকৃত নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট। সাধারণভাবে যিনি চেক ইস্যু করেন তিনি ড্রয়ার, যে ব্যাংকের ওপর চেকটি লেখা হয় সেটি ড্রয়ি ব্যাংক এবং যার অনুকূলে অর্থ দেওয়া হবে তিনি পেই বা প্রাপক।
চেক লেখার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
চেক লেখা শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা আছে কি না নিশ্চিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সঠিক চেকবই ব্যবহার করছেন কি না, পাতাটি অক্ষত কি না এবং ব্যাংকে নিবন্ধিত স্বাক্ষরের ধরন মনে আছে কি না তা যাচাই করুন। কোনো প্রতিষ্ঠান বা যৌথ হিসাব হলে একাধিক অনুমোদিত স্বাক্ষর বা প্রতিষ্ঠানের সিল প্রয়োজন কি না সেটিও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী দেখে নেওয়া ভালো।
চেক লেখার জন্য স্থায়ী কালির কলম ব্যবহার করা নিরাপদ। পেন্সিল বা সহজে মুছে ফেলা যায় এমন কালি ব্যবহার না করাই ভালো। ফাঁকা জায়গা যতটা সম্ভব কম রাখলে পরে অননুমোদিতভাবে তথ্য যোগ করার ঝুঁকিও কমে।
ব্যাংক চেক লেখার সঠিক নিয়ম ধাপে ধাপে
১. তারিখ সঠিকভাবে লিখুন
চেকের নির্ধারিত তারিখের ঘরে দিন, মাস ও বছর পরিষ্কারভাবে লিখুন। যেমন: ২১/০৮/২০২৬। তারিখ অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা ভুল হলে চেক প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে। ভবিষ্যতের তারিখ দিয়ে চেক লেখা হলে সাধারণভাবে উল্লেখিত তারিখ আসার আগে সেটি পরিশোধের জন্য উপস্থাপন না করাই উচিত। তাই চেক দেওয়ার আগে তারিখটি আরেকবার মিলিয়ে নিন।
২. যাকে টাকা দেবেন তার পূর্ণ নাম লিখুন
প্রাপকের নামের ঘরে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঠিক নাম লিখুন। উদাহরণ হিসেবে, “মো. রফিকুল ইসলাম” লিখলে বানানটি তার ব্যাংক হিসাবের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উত্তম। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ব্যবহৃত নাম জানা থাকলে সেটিই ব্যবহার করুন। নামের আগে বা পরে অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা না রাখাই নিরাপদ।
৩. টাকার পরিমাণ সংখ্যায় লিখুন
নির্ধারিত ঘরে টাকার পরিমাণ সংখ্যায় স্পষ্টভাবে লিখুন। যেমন, ১,২৫,০০০.০০ টাকা। সংখ্যার শুরুতে বা শেষে এমন ফাঁকা জায়গা রাখা উচিত নয় যেখানে পরে অন্য সংখ্যা বসানো সম্ভব। সংখ্যাটি লেখার পর আবার গুনে দেখুন, বিশেষ করে লাখ ও হাজারের অবস্থান ঠিক আছে কি না।
৪. টাকার পরিমাণ কথায় লিখুন
চেকের নির্ধারিত ঘরে টাকার পরিমাণ কথায় পরিষ্কারভাবে লিখুন। উদাহরণ: “এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা মাত্র।” সংখ্যায় এবং কথায় লেখা টাকার পরিমাণ অবশ্যই একই হতে হবে। দুই জায়গার অঙ্কে অমিল থাকলে চেক গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে। তাই লেখার পর সংখ্যায় ও কথায় লেখা অঙ্ক পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন।
৫. প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট পে করুন
চেকের অর্থ নির্দিষ্ট প্রাপকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চাইলে চেকটি অ্যাকাউন্ট পে হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে চেকের ওপরের অংশে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে অ্যাকাউন্ট পে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ধরনের চেক সরাসরি নগদায়নের পরিবর্তে চেকে উল্লেখিত প্রাপকের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। নিরাপদ ও আনুষ্ঠানিক লেনদেনে অ্যাকাউন্ট পে চেক ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
৬. ব্যাংকে দেওয়া নমুনা অনুযায়ী স্বাক্ষর করুন
চেকের নির্ধারিত স্বাক্ষরের জায়গায় ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে স্বাক্ষর করতে হবে। অতিরিক্ত ছোট, বড় বা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের স্বাক্ষর করলে ব্যাংক যাচাইয়ের সময় অমিল পেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক ফেরতের কারণের তালিকায় স্বাক্ষরের অমিল এবং স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকা উভয়ই উল্লেখ রয়েছে।
ব্যাংক চেক লেখার নমুনা
ধরা যাক, আপনি মো. রফিকুল ইসলামকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিতে চান এবং চেকের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬। সে ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নমুনা এমন হতে পারে:
| চেকের অংশ | নমুনা |
|---|---|
| তারিখ | ২১/০৮/২০২৬ |
| প্রাপকের নাম | মো. রফিকুল ইসলাম |
| টাকার অঙ্ক সংখ্যায় | ১,২৫,০০০.০০ টাকা |
| টাকার অঙ্ক কথায় | এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা মাত্র |
| ক্রসিং | অ্যাকাউন্ট পে |
| স্বাক্ষর | ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা অনুযায়ী |
এই নমুনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংখ্যায় এবং কথায় লেখা অর্থের পরিমাণ একই রাখা। প্রাপকের নাম নিশ্চিত না হয়ে আন্দাজ করে লেখা উচিত নয়। স্বাক্ষরও সবশেষে করা ভালো, যাতে অন্যান্য তথ্য পূরণ করার আগে ভুল করে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর থেকে না যায়।
চেকে কাটাকাটি বা ভুল হলে কী করবেন?
তারিখ, প্রাপকের নাম বা টাকার পরিমাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেটে পরিবর্তন করা এড়িয়ে চলুন। এসব তথ্য পরিবর্তিত হলে ব্যাংকের যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে এবং চেকটি ফেরতও যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ভুল লিখলে একই চেকে বারবার সংশোধন না করে নতুন চেক লেখা বেশি নিরাপদ।
তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুল হলে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো চেকটি বাতিল করে নতুন পাতায় আবার লেখা। বাতিল চেকটি নিজের কাছে রাখলে তার ওপর বড় করে “বাতিল” লিখে রাখা যেতে পারে। এতে চেকটির ভবিষ্যৎ অপব্যবহারের ঝুঁকি কমে।
বড় অঙ্কের চেকে পজিটিভ পে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পজিটিভ পে এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে চেক ইস্যু করার পর গ্রাহক ব্যাংককে চেক নম্বর, তারিখ, প্রাপকের নাম এবং টাকার অঙ্কের মতো তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিতে পজিটিভ পে বলতে ইস্যু করা চেকের গ্রাহক-প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে পরিশোধের জন্য উপস্থাপিত চেকের তথ্য তুলনা করার প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে।
পজিটিভ পে ব্যবহারের সীমা ও পদ্ধতি ব্যাংক এবং হিসাবের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেক নম্বর, তারিখ, প্রাপকের নাম ও টাকার পরিমাণ আগে থেকে ব্যাংককে জানাতে হয়। তাই বড় অঙ্কের চেক ইস্যু করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান পজিটিভ পে নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া যাচাই করুন।
চেক কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়?
চেক দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে যথাসময়ে ব্যাংকে উপস্থাপন করা উচিত। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে চেকটি মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং ব্যাংক সেটি গ্রহণ না-ও করতে পারে। পুরোনো কোনো চেক হাতে থাকলে শুধু সাধারণ সময়সীমার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চেকটির বর্তমান বৈধতা নিশ্চিত করুন।
চেক লেখার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
ফাঁকা চেকে আগেই স্বাক্ষর করা, প্রাপকের নাম অসম্পূর্ণ রাখা, সংখ্যায় ও কথায় আলাদা অঙ্ক লেখা, তারিখ না দেওয়া, অস্বাভাবিক কাটাকাটি করা এবং ব্যাংকে থাকা নমুনা থেকে ভিন্ন স্বাক্ষর করা এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। চেক হারিয়ে গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরিশোধ বন্ধ করার অনুরোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার, শুধু চেক সঠিকভাবে লেখাই যথেষ্ট নয়। হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা, চেকটি সচল হিসাবের হওয়া এবং ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত যাচাইকরণ সম্পন্ন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফেরত কারণের তালিকায় অপর্যাপ্ত অর্থ, বন্ধ বা স্থগিত হিসাব, পরিশোধ বন্ধের নির্দেশ এবং ভুল প্রাপকের মতো কারণও রয়েছে।
চেক লেখার পর এক মিনিটের যাচাই
চেক কাউকে দেওয়ার আগে চারটি তথ্য আলাদাভাবে মিলিয়ে দেখুন: তারিখ, প্রাপকের নাম, সংখ্যায় ও কথায় টাকার অঙ্ক এবং স্বাক্ষর। এরপর প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট পে ক্রসিং এবং বড় অঙ্কের চেক হলে পজিটিভ পে সম্পন্ন হয়েছে কি না যাচাই করুন। এই ছোট অভ্যাসটি অনেক সাধারণ ভুল আগেই ধরতে সাহায্য করতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. চেকে বাংলা ভাষায় টাকার অঙ্ক লেখা যায় কি?
চেকের নির্ধারিত ঘরে টাকার অঙ্ক বাংলা ভাষায় কথায় লেখা যেতে পারে, যদি তা পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন হয়। সংখ্যায় লেখা অঙ্কের সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্ক অবশ্যই মিলতে হবে। চেকের পাতায় কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া থাকলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আলাদা নিয়ম থাকলে সেটিই অনুসরণ করুন।
২. চেকে সংখ্যায় এবং কথায় টাকার অঙ্ক আলাদা হলে কী হবে?
এটি গুরুতর ভুল। বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেটেড চেক প্রসেসিং ব্যবস্থায় সংখ্যায় ও কথায় লেখা অর্থের অমিল একটি স্বীকৃত চেক ফেরত কারণ। তাই চেক দেওয়ার আগে দুই জায়গার অঙ্ক পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা উচিত। ভুল ধরা পড়লে নতুন চেক লেখা নিরাপদ।
৩. চেকে তারিখ না লিখলে কি টাকা তোলা যায়?
তারিখ ছাড়া চেক দেওয়া উচিত নয়। চেকের তারিখ লেনদেনের সময় এবং চেকটির কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাই চেক ইস্যু করার সময় নির্ধারিত ঘরে সঠিক ও স্পষ্ট তারিখ লিখুন। ভুল বা অসম্পূর্ণ তারিখ থাকলে ব্যাংকের প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে।
৪. ভবিষ্যতের তারিখ দিয়ে চেক লেখা যায় কি?
ভবিষ্যতের তারিখ দেওয়া চেক প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেখা যায়। তবে উল্লিখিত তারিখ আসার আগে সেটি সাধারণভাবে পরিশোধযোগ্য চেক হিসেবে কার্যকর হয় না। তাই যে তারিখ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে চান সেটিই স্পষ্টভাবে লিখুন এবং প্রাপককে বিষয়টি জানিয়ে দিন।
৫. অ্যাকাউন্ট পে চেকের সুবিধা কী?
অ্যাকাউন্ট পে চেকের প্রধান সুবিধা হলো অর্থ নির্দিষ্ট প্রাপকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ স্পষ্ট করা। এতে চেকটি অন্যভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। বড় অঙ্কের বা আনুষ্ঠানিক পরিশোধে অ্যাকাউন্ট পে চেক ব্যবহার একটি কার্যকর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হতে পারে।
৬. চেকে ভুল হলে পাশে স্বাক্ষর করে সংশোধন করলেই কি হবে?
সব ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রাপকের নাম, তারিখ এবং টাকার অঙ্কের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ব্যাংকও এমন পরিবর্তন গ্রহণ না করতে পারে। নিরাপদ উপায় হলো ভুল চেক বাতিল করে নতুন চেক লেখা।
৭. চেকের স্বাক্ষর একটু ভিন্ন হলে কী সমস্যা হতে পারে?
ব্যাংক চেকের স্বাক্ষর হিসাব খোলার সময় বা পরবর্তীতে নিবন্ধিত নমুনার সঙ্গে যাচাই করতে পারে। স্বাক্ষর উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হলে চেক ফেরত যেতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে অস্পষ্ট স্বাক্ষর না দিয়ে স্বাভাবিক এবং ব্যাংকে ব্যবহৃত একই ধরনের স্বাক্ষর করা উচিত।
৮. ৫ লাখ টাকার চেক লিখলে অতিরিক্ত কিছু করতে হবে কি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিং ব্যবস্থায় ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি অঙ্কের চেক উচ্চমূল্যের ক্লিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের চেকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অতিরিক্ত নিশ্চিতকরণ বা পজিটিভ পে তথ্য চাইতে পারে। তাই চেক দেওয়ার আগে ব্যাংকের অ্যাপ, গ্রাহকসেবা কেন্দ্র অথবা শাখা থেকে বর্তমান নিয়ম জেনে নিন।
৯. চেক হারিয়ে গেলে কী করা উচিত?
চেক হারানোর বিষয়টি জানতে পারার পর যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানানো উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ওই চেক নম্বরের পরিশোধ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে হতে পারে। চেক নম্বর, হিসাব নম্বর এবং সম্ভাব্য প্রাপকের তথ্য কাছে থাকলে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়। তাই ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত চেকের হিসাব রাখা একটি ভালো অভ্যাস।
১০. চেক দেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাচাই কোনটি?
চেক দেওয়ার আগে চারটি তথ্য অবশ্যই যাচাই করুন: তারিখ, প্রাপকের নাম, টাকার অঙ্ক এবং স্বাক্ষর। এরপর সংখ্যায় ও কথায় লেখা অঙ্ক একই কি না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট পে বা পজিটিভ পে সম্পন্ন হয়েছে কি না দেখুন। এক মিনিটের এই যাচাই সাধারণ অনেক ভুল এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
উপসংহার
ব্যাংক চেক লেখার সঠিক নিয়ম মূলত নির্ভুলতা, নিরাপত্তা এবং পুনরায় যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে। তারিখ পরিষ্কারভাবে লেখা, প্রাপকের সঠিক নাম ব্যবহার, সংখ্যায় ও কথায় একই টাকার অঙ্ক লেখা এবং ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা অনুযায়ী স্বাক্ষর করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট পে এবং বড় অঙ্কের চেকে পজিটিভ পে ব্যবহার করলে লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ব্যাংকভেদে কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে, তাই বড় অঙ্ক বা গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের আগে নিজের ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করুন।

