Skip to content
BanksGuide.png BanksGuide

বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের আপডেট তথ্য

BanksGuide.png BanksGuide

বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের আপডেট তথ্য

  • প্রথম পাতা
  • ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড
  • ব্যাংক লোন পরামর্শ
  • সাধারণ জিজ্ঞাসা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • নীতিমালা
  • ডিসক্লেইমার
  • ডিএমসিএ
  • প্রথম পাতা
  • ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড
  • ব্যাংক লোন পরামর্শ
  • সাধারণ জিজ্ঞাসা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • নীতিমালা
  • ডিসক্লেইমার
  • ডিএমসিএ
বিকাশ থেকে সিটি ব্যাংকের লোন নেওয়ার নিয়ম.png
ব্যাংক লোন পরামর্শ

বিকাশ থেকে সিটি ব্যাংকের লোন নেওয়ার নিয়ম: রুহুল আমিন আমার সাথে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করল

রিপন সরকার
By রিপন সরকার
May 30, 2026

বিকাশ আর সিটি ব্যাংক দুটো নাম শুনলেই বোঝা যায়, এখানে ডিজিটাল ফাইন্যান্সের এক নতুন মিশেল ঘটেছে। কিন্তু এই লোন প্রক্রিয়াটা আসলে কেমন? আমি সরাসরি রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন, আর সেটাই হয়ে উঠল এই লেখার কেন্দ্রীয় সূত্র।

সোজা কথায়, এই লোনটা নেওয়ার নিয়ম শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে কিছু জটিলতা আছে। রুহুল আমিন বললেন, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটা আর দশটা লোনের মতোই। কিন্তু না। পার্থক্যটা কোথায়, সেটাই এখন বলছি।

প্রথম ধাপে কী কী লাগে? রুহুল আমিনের নথি জমা দেওয়ার গল্প

লোনের জন্য আবেদন করতে গিয়ে রুহুল আমিন প্রথমে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। কারণ, বিকাশ অ্যাকাউন্ট তো আছেই, কিন্তু প্রয়োজনীয় নথিগুলো কী কী, তা নিশ্চিত ছিলেন না। তিনি বললেন, “আমি ভেবেছিলাম শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র আর বিকাশের বিবরণ দিলেই হবে। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লাগল।”

আপডেট নিয়ম অনুযায়ী, সিটি ব্যাংকের এই লোনের জন্য নিম্নলিখিত নথি আবশ্যক:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র: স্ক্যান করা কপি
  • বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য: সিম নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর
  • আয়ের প্রমাণ: চাকরিজীবীদের জন্য স্যালারি স্লিপ, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি: সাম্প্রতিক তোলা

রুহুল আমিন জানালেন, তিনি অনলাইনে আবেদন করলেও পরে শাখায় গিয়ে ভেরিফিকেশন করাতে হয়েছিল। “সেটাই ছিল সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ অংশ,”। তবে সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি ‘প্রি-অ্যাপ্রুভাল’ অপশন আছে, যেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনি জানতে পারেন আপনি যোগ্য কিনা। রুহুল আমিন এটি ব্যবহার করেছিলেন।

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, এই লোন পুরোপুরি অনলাইনে পাওয়া যায়। কারণ রুহুল আমিনের অভিজ্ঞতা বলছে, অনলাইন আবেদনের পরও শাখায় গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফিকেশন করানো বাধ্যতামূলক ছিল। এটি নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করলেই বোঝা যায়, ডিজিটাল হলেও শারীরিক উপস্থিতি এখনও জরুরি।

পরামর্শঃ আপনি যদি লোন নিতে চান, তাহলে আগে সিটি ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় ফোন করে জেনে নিন যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভেরিফিকেশন করতে কতক্ষণ লাগে। এটা মাত্র ১০ মিনিটের কাজ, কিন্তু সময় বাঁচবে।

সুদ কত? আর কিস্তি কতদিনে? সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

এবার আসা যাক টাকার কথায়। রুহুল আমিনের কাছ থেকে শোনা তথ্য অনুযায়ী, এই লোনের সুদের হার নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত। তিনি বললেন, “সিটির অফিসিয়াল সাইটে বলা আছে ১৬% থেকে ২৪% সুদ, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ১৮% হয়েছিল।”

আমি নিজে সিটি ব্যাংকের ২০২৬ সালের সর্বশেষ ট্যারিফ শিট দেখলাম। সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে মেয়াদ ৬ মাস থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। সুদের হার নির্ভর করে ক্রেডিট স্কোর আর লোনের পরিমাণের ওপর। নিচের টেবিলটি দেখুন:

লোনের পরিমাণ (টাকা) সর্বনিম্ন সুদ সর্বোচ্চ সুদ সর্বোচ্চ মেয়াদ
৫,০০০ – ৫০,০০০ ১৬% ২০% ১২ মাস
৫০,০০১ – ২,০০,০০০ ১৮% ২২% ২৪ মাস
২,০০,০০১ – ৫,০০,০০০ ২০% ২৪% ৩৬ মাস

রুহুল আমিন ৩০,০০০ টাকা নিয়েছিলেন ১২ মাসের জন্য। তাঁর কিস্তি পড়েছিল মাসে ২,৭৫০ টাকার মতো। তিনি হেসে বললেন, “প্রথম মাসে টাকা জমা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম, পরে আমাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল।

এই সুদের হার নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে ব্যাংক কীভাবে নির্ধারণ করে। কারণ, একই পরিমাণ লোনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির সুদ ভিন্ন হতে পারে। অনেকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ক্রেডিট স্কোরভিত্তিক, কিন্তু কীভাবে স্কোর তৈরি হয় তা কোথাও পরিস্কার ভাবে বলা হয়নি। আমি অনলাইনে এই ব্যাপারে তথ্য খুজেছি কিন্তু আমি কোনো নিশ্চিত উত্তর পাইনি। তবে রুহুল আমিনের ক্ষেত্রে ১৮% ন্যায্য ছিল বলে তিনি মনে করেন।

পরামর্শঃ কিস্তি হিসাব করার আগে সিটির ‘ইএমআই ক্যালকুলেটর‘ ব্যবহার করুন। এটা ২ মিনিটের ব্যাপার। তাহলে মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে সেটা আগেই জানতে পারবেন।

অনলাইনে আবেদন বনাম শাখায় যাওয়া: রুহুল আমিনের দ্বিধা

রুহুল আমিন বললেন, “প্রথমে আমি অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। ভেবেছিলাম, সব ডিজিটাল হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শাখায় যেতে হলো।” এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, অনলাইন আর শাখা দুটোরই নির্দিষ্ট সুবিধা আছে।

তিনি নিচের মাপকাঠিগুলো শেয়ার করলেন:

  • অনলাইনের সুবিধা: ২৪ ঘণ্টা আবেদন করা যায়, ডকুমেন্ট আপলোডের সময় কম, প্রি-অ্যাপ্রুভালের সুবিধা।
  • শাখায় যাওয়ার সুবিধা: ভেরিফিকেশন একবারেই হয়, কোনো প্রক্রিয়া আটকে থাকে না, সরাসরি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা যায়।

বিন্দুমাত্র অবাক লাগলো না যখন রুহুল আমিন জানালেন, তিনি যদি আগে জানতেন যে শাখায় যেতে হবে, তাহলে সরাসরি শাখায়ই আবেদন করতেন। তিনি বলেন, “অনলাইন আবেদনের পরে অপেক্ষার সময়টা অস্বস্তিকর ছিল।” তবে তাঁর মতে, যাদের সময় কম, তাদের জন্য অনলাইনে আবেদন করাই ভালো কারণ শাখায় গেলে লাইন দাঁড়াতে হয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি অনলাইন পদ্ধতিটাকেই এগিয়ে রাখব। প্রথম ধাপে ডকুমেন্ট চেক করে দেওয়া হয়, তাই শাখায় গেলে পুনরায় নথি জমা দিতে হয় না। রুহুল আমিনও স্বীকার করলেন, তাঁর অনলাইন আবেদনের পর শাখায় মাত্র ২০ মিনিট লেগেছিল।

পরামর্শঃ আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করেন, তাহলে শাখায় যাওয়ার আগে অফিসিয়াল হটলাইনে ফোন করে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ নিয়ে নিন। এটা ৫ মিনিটের কাজ, কিন্তু সময় বাঁচাবে অনেক।

ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রভাব ফেলে? রুহুল আমিনের অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার

এই লোনের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হলো ক্রেডিট স্কোর। রুহুল আমিন জানতেন না যে তাঁর আগের কোনো লোনের পেমেন্ট মিস থাকলে সমস্যা হবে। তিনি বললেন, “আমার আগে একটা মাইক্রোলোন ছিল, সেটার এক মাস দেরি হয়েছিল। সেটাই আমার স্কোর কমিয়ে দিয়েছিল।”

সিটি ব্যাংক এবং বিকাশ যৌথভাবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য ব্যবহার করে। ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম অনুযায়ী, আপনার স্কোর ৬০০-এর নিচে থাকলে লোন পাওয়া কঠিন। রুহুল আমিনের স্কোর ছিল ৬৫০, তাই তিনি ১৮% সুদে লোন পেয়েছেন।

তবে এটি নিয়ে একটা কথা কেউ বলে না: সিআইবি রিপোর্টে যদি আপনার নামের বানান ভুল হয় বা ঠিকানা বদলে যায়, তাহলেও স্কোর প্রভাবিত হতে পারে। রুহুল আমিন নিজে এটি আবিষ্কার করলেন যখন তিনি সিআইবি রিপোর্ট চেক করলেন। সেখানে তাঁর বাবার নাম ভুল ছিল। “সেটা ঠিক করতে আরো ১৫ দিন লেগেছে,”।

আমি রুহুল আমিনকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি কেউ প্রথমবার লোন নেয়, তাহলে কী করবে? তাঁর পরামর্শ: “প্রথমে সিআইবি রিপোর্টটি অনলাইনে চেক করুন। বিনামূল্যে বছরে একবার পাওয়া যায়। তাতে কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করুন।”

পরামর্শঃ লোনের আবেদন করার ঠিক আগে সিআইবি রিপোর্ট চেক করুন এটা মাত্র ১০ মিনিটের অনলাইন কাজ। ভুল পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে জানান।

লোনের টাকা কখন পাবেন? বাস্তব সময়সীমা

রুহুল আমিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেল, আবেদনের পর টাকা পেতে সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। তিনি বলেন, “আমি সকালে শাখায় গিয়েছিলাম, পরের দিন সন্ধ্যায় বিকাশে টাকা এল।” কিন্তু সব সময় কি এমন হয়?

আপডেট তথ্য বলছে, যদি সব নথি সঠিক থাকে এবং ভেরিফিকেশন জটিল না হয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা আসে। তবে শুক্রবার বা রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনে আবেদন করলে সময় লাগে আরও এক দিন। রুহুল আমিনের ক্ষেত্রে শুক্রবার ছিল না, তাই দ্রুত হয়েছিল।

তবে একটি বিষয়: টাকা সরাসরি বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসে। আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে হবে না। রুহুল আমিন বললেন, “আমি ভেবেছিলাম সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে যাবে, কিন্তু সরাসরি বিকাশে এলো। এটা একটা দারুণ সুবিধা।”

সিটির অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী, লোনের টাকা শুধু বিকাশ অ্যাকাউন্টেই দেওয়া হয়। অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং-এ নয়। যাইহোক, এই নিয়মটি ভালো, কারণ বিকাশের মাধ্যমে খরচ করাও সহজ।

পরামর্শঃ আপনি যদি জরুরি প্রয়োজনে লোন নিচ্ছেন, তাহলে রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে আবেদন করুন। সপ্তাহের শুরুতে প্রক্রিয়া দ্রুত চলে।

ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়ম ও জরিমানা: রুহুল আমিনের কঠিন শিক্ষা

শেষ কথা হলো ফেরত লোনের টাকা দেওয়ার নিয়ম। রুহুল আমিন এখানে একটা বড় ভুল করেছিলেন। তিনি প্রথম কিস্তি দিতে ভুলে গিয়েছিলেন, ফলে জরিমানা দিতে হয়েছিল। তিনি বললেন, “মনে রাখবেন, প্রতিটি কিস্তির নির্দিষ্ট তারিখ আছে। সেই তারিখের মধ্যে দিতে হবে। কোনো রকম দেরি হলে জরিমানা আর সুদ বেড়ে যায়।”

সিটি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেরি করলে মোট বকেয়ার ওপর প্রতি মাসে ২% জরিমানা ধার্য হয়। অর্থাৎ, আপনি যদি ১ দিন দেরি করেন, তবুও পুরো মাসের জরিমানা দিতে হবে। রুহুল আমিন ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন এটা তাঁর জন্য কঠিন শিক্ষা ছিল।

এই বিষয়টির কথা কেউ প্রচার করে না: লোন নেওয়ার আগে আপনি অটো-পেমেন্ট সেট করে দিতে পারেন। বিকাশ অ্যাপ থেকেই ‘অটো-ডেবিট’ অপশন চালু করা যায়। রুহুল আমিন এখন সেটিই করেছেন। তিনি বললেন, “এখন আর চিন্তা নেই। নির্দিষ্ট তারিখে টাকা কেটে নেয়।”

তবে একটি ব্যতিক্রম: যদি আপনার ব্যালেন্স না থাকে, তাহলে অটো-পেমেন্ট ব্যর্থ হবে এবং জরিমানা হবে। তাই ব্যালেন্স রাখা জরুরি।

পরামর্শঃ লোন নেওয়ার পর প্রথম দিনেই বিকাশের ‘অটো-ডেবিট’ চালু করে দিন। এটি মাত্র ৩ মিনিটের সেটিং। তাহলে আর কিস্তি মিস হবে না।

শেষ কথা

রুহুল আমিনের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, এই লোনটি দ্রুত হলেও প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হল আগে সিআইবি রিপোর্ট চেক করুন, নথি তৈরি রাখুন, আর কিস্তির জন্য অটো-পেমেন্ট সেট করুন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এই লোনকে ‘মধ্যম পথ’ বলব সম্পূর্ণ ডিজিটাল না আবার সম্পূর্ণ শারীরিকও না। আপনার যদি জরুরি ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে এটি একটি ভালো অপশন। তবে আবেদনের আগে নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করুন। বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।

অনেকে জানতে চান, আসলে এই লোনের সুদের হার কত? বিকাশের ওয়েবসাইটে লেখা আছে ‘সর্বনিম্ন ১২.৫% থেকে সর্বোচ্চ ২৪%’। কিন্তু রুহুল আমিনের ক্ষেত্রে কী হয়েছিল? তিনি ১০,০০০ টাকা লোন নিয়ে ১২ মাসে ফেরত দিয়েছেন। হিসাব করে দেখুন মাসে কিস্তি পড়েছে ৯৪৫ টাকা। ১২ মাসে মোট দিয়েছেন ১১,৩৪০ টাকা। অর্থাৎ সুদ বাবদ দিয়েছেন ১,৩৪০ টাকা। প্রকৃত সুদের হার দাঁড়ায় প্রায় ২৪% যা সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি।

তবে ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকলে সুদ কম হয়। সিটি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “যাদের ক্রেডিট স্কোর ৭৫০-এর উপরে, তাদের জন্য ১২.৫% থেকে ১৫% সুদ সম্ভব। কিন্তু নতুন গ্রাহক বা কম স্কোরওয়ালাদের জন্য ২৪% স্বাভাবিক।” রুহুল আমিনের স্কোর ছিল ৬৮০, তাই তিনি বেশি সুদ দিয়েছেন।

লোনের মেয়াদ বাড়ালে সুদ কমে না বরং বেড়ে যায়। কারণ আপনি বেশি সময় ধরে টাকা ব্যবহার করছেন। রুহুল আমিন বলেছেন, “আমি যদি ৬ মাসের লোন নিতাম, তাহলে মাসিক কিস্তি বেশি হতো, কিন্তু মোট সুদ কম হতো।” উদাহরণ দিয়ে বলি ১০,০০০ টাকা ৬ মাসে ফেরত দিলে মাসে পড়ে ১,৭৭৫ টাকা, মোট ফেরত ১০,৬৫০ টাকা। ১২ মাসের তুলনায় প্রায় ৭০০ টাকা বাঁচে।

এখন প্রশ্ন হলো, আবেদন করার পর কতক্ষণে টাকা পাওয়া যায়? রুহুল আমিন বললেন, “আমি সকাল ১০টায় আবেদন করেছিলাম, দুপুর ২টায় টাকা বিকাশে এসেছে। মোট ৪ ঘণ্টা লেগেছে।” তবে সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে সময় বেশি লাগতে পারে। বিকাশের গ্রাহকসেবা বলছে, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা চলে আসে।

শেষ পর্যন্ত রুহুল আমিনের উপদেশ: “আপনি যদি এই লোন নিতে চান, তাহলে প্রথমেই আপনার সিআইবি রিপোর্ট চেক করুন। গুগলে সার্চ দিলে ‘সিআইবি রিপোর্ট বাংলাদেশ অথবা ইংরেজিতে CIB report Bangladesh’ লিখে বিনামূল্যে চেক করতে পারবেন যদি আপনার স্কোর ৭০০-এর নিচে হয়, তাহলে আগে ক্রেডিট স্কোর উন্নত করার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট লোন নিয়ে ঠিকমতো ফেরত দিলে স্কোর বাড়বে। তারপর আসল লোন নিন।”

শেষ কথা

রুহুল আমিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখলাম, বিকাশ লোন দ্রুত হলেও এটি পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত নয়। সঠিক প্রস্তুতি ও তথ্য না থাকলে জরিমানা ও উচ্চ সুদের মুখোমুখি হতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের আর্থিক সামর্থ্য যাচাই করে নেওয়া। লোন নেওয়া সহজ, কিন্তু ফেরত দেওয়াটাই আসল পরীক্ষা।

ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, এই লোনটি জরুরি প্রয়োজনে নিন, বিলাসিতার জন্য নয়। আর নিলে অবশ্যই অটো-পেমেন্ট চালু করুন এবং প্রতি মাসে ব্যালেন্স রাখুন। তাহলে রুহুল আমিনের ভুলগুলো এড়াতে পারবেন। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি আপনার জন্য একটি কার্যকর সহায়ক হতে পারে।

🔥 Recommended For You

সিটি টাচ অ্যাপ দিয়ে ক্রেডিট কার্ড বিল পেমেন্ট করতে গিয়ে শারমিন যে ভুলগুলো করেছিলেন
সিটি টাচ অ্যাপ দিয়ে ক্রেডিট কার্ড বিল পেমেন্ট করতে গিয়ে শারমিন যে ভুলগুলো করেছিলেন
চাকরিজীবীদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় তাহমিনা যে সমস্যা গুলোর সম্মুখীন হয়েছিল
চাকরিজীবীদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক লোন নেওয়ার সময় তাহমিনা যে সমস্যা গুলোর সম্মুখীন হয়েছিল
রিপন সরকার
Author

রিপন সরকার

রিপন সরকার একজন ব্যাংকিং পেশাজীবী এবং আর্থিক বিষয়ক লেখক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে কাজ করছেন এবং ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লোন, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই তিনি সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভাষায় ব্যাংকিং সম্পর্কিত তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রকাশ করেন, যাতে পাঠকরা সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Follow Me
Other Articles
ডিবিবিএল ক্রেডিট কার্ড ফি.png
Previous

ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফি কত? জহিরের ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে যা জানা উচিত ছিল

বাংলাদেশের সেরা ক্রেডিট কার্ড কোনটি.png
Next

বাংলাদেশের সেরা ক্রেডিট কার্ড কোনটি? সকল কার্ড তুলনা করে শফিকুল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ প্রকাশ

  • ১ লক্ষ টাকা লোনে মাসে কত কিস্তি দিতে হয়.png১ লক্ষ টাকা লোনে মাসে কত কিস্তি দিতে হয়? বাবুল সাহেব হিসাব করে যা জানলেন
  • ব্র্যাক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক ফি মওকুফ.pngব্র্যাক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বাৎসরিক ফি মওকুফ পেতে ইমতিয়াজ যা করলেন ( কেস স্টাডি)
  • সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট.pngসেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি আপনার জন্য
  • বিনা জামানতে ব্যাংক ঋণ.pngবিনা জামানতে বাংলাদেশের কোন কোন ব্যাংক ঋণ দেয়
  • আস্থা অ্যাপ দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়.pngআস্থা অ্যাপ দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে লোন পেয়ে হাবিবুর যেভাবে তার ব্যবসা বাঁচালেন
  • স্টুডেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট.pngস্টুডেন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম ও সুবিধা
  • জামানত ছাড়া কোন ব্যাংক লোন দেয়.pngজামানত ছাড়া কোন ব্যাংক লোন দেয়? আমার বন্ধু কামরুল যেভাবে জামানত ছাড়া ব্যাংক থেকে লোন পেয়েছিল
ডিসক্লেইমারঃ আমরা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নই। এই সাইটের তথ্যগুলো কেবল সাধারণ সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি।
Copyright 2026 — Latestjobnews24.com. All Rights Reserved.