প্রতিবন্ধীদের ঋণ প্রদান করে কোন কোন ব্যাংক?
বাংলাদেশে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছোট ব্যবসা শুরু করতে বা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু বাস্তবে কোন ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়, কী ধরনের শর্ত থাকে এবং আবেদন কোথায় করতে হবে—এসব তথ্য এক জায়গায় নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়া বেশ কঠিন।
এই কারণে অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করেন অথবা মনে করেন প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। বাস্তবে সরকারি ব্যাংক, সরকারি অর্থায়ন কর্মসূচি এবং কিছু বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা ব্যবসাভিত্তিক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
এই নিবন্ধে সর্বশেষ নীতিমালার আলোকে কোন কোন ব্যাংক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের আবেদন গ্রহণ করে, আবেদন করার আগে কী জানা জরুরি এবং বাস্তবে সফল আবেদনকারীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেন সেসব বিষয় ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য ঋণ সুবিধা কী?
প্রতিবন্ধীদের জন্য ঋণ বলতে এমন অর্থায়নকে বোঝায়, যা আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ অথবা সেবামূলক পেশা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এই অর্থ সাধারণত ব্যক্তিগত ভোগের জন্য নয়; বরং আয় সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। ব্যাংক আবেদনকারীর পরিকল্পনা, সম্ভাব্য আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রতিবন্ধীদের ঋণ প্রদান করে কোন কোন ব্যাংক?
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট নামে একটি একক ব্যাংকিং প্রকল্প না থাকলেও কয়েকটি সরকারি ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের সুযোগ রাখে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংক
সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক থাকার কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজেই স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন। প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ঋণ স্কিম সব সময় চালু না থাকলেও আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং এসএমই অর্থায়নের আওতায় আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বর্তমান কর্মসূচি সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্ন কাগজপত্র এবং সম্ভাব্য আয়ের হিসাব উপস্থাপন করতে পারলে আবেদন মূল্যায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জনতা ব্যাংক
জনতা ব্যাংকও বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবন্ধী আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি ও গ্রহণযোগ্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারলে ব্যাংক তাদের আবেদন বিবেচনা করতে পারে।
অগ্রণী ব্যাংক
অগ্রণী ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তারাও এসব কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় শাখা আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
যেসব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য কিংবা গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনা করতে চান, তাঁদের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচি উপযোগী হতে পারে। আবেদনকারীর প্রকল্প বাস্তবসম্মত হলে ঋণ অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ভূমিকা
শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে সরকার জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ পরিচালনা করছে। ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সময়ে অনুদান, ক্ষুদ্র ঋণ এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেও এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হয়।
ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দাননির্ভর না রেখে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার গুরুত্ব
বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সাধারণ গ্রাহককে ঋণ দেয় না। তবে দেশের ব্যাংকিং খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ উন্নয়ন এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অর্থায়নে উৎসাহমূলক নীতিমালা প্রণয়ন করে। এর ফলে ব্যাংকগুলো প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের আবেদনকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার সুযোগ পায়।
কারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন?
সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি একই ধরনের ঋণের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। সাধারণভাবে নিচের বৈশিষ্ট্য থাকলে আবেদন করার সুযোগ থাকে।
- সরকারি স্বীকৃত প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি।
- ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তা।
- ইতোমধ্যে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তা।
- কৃষি, পশুপালন, মৎস্য, হস্তশিল্প, সেলাই, দোকান, অনলাইন ব্যবসা বা সেবামূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তি।
- ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে সক্ষম আবেদনকারী।
চূড়ান্ত যোগ্যতা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। তাই আবেদন করার আগে নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করে সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।
আবেদনের জন্য সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয়
ব্যাংকভেদে নথিপত্রের কিছু পার্থক্য থাকলেও সাধারণভাবে নিচের কাগজগুলো প্রয়োজন হতে পারে।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
- প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র বা সনদ।
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি।
- ব্যবসার পরিকল্পনা বা প্রকল্পের বিবরণ।
- ট্রেড লাইসেন্স (যদি প্রযোজ্য হয়)।
- ব্যাংক হিসাবের তথ্য।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র।
- প্রয়োজন অনুযায়ী জামিনদার বা অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ঋণের জন্য একই কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। ঋণের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যাংকের নীতিমালার ভিত্তিতে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।
প্রতিবন্ধীদের ঋণের জন্য আবেদন করার ধাপ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু আবেদনপত্র জমা দিলেই হয় না। আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার সম্ভাবনা এবং ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়। তাই আবেদন করার আগে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমে নিকটস্থ সরকারি ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখায় গিয়ে জানতে হবে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমানে কোনো বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু রয়েছে কি না। এরপর প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র সংগ্রহ করে নির্ধারিত কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। যদি ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য আয়, ব্যয়ের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করলে আবেদন আরও গ্রহণযোগ্য হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যাংক আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে। প্রয়োজন হলে ব্যবসার স্থান বা প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়। সবকিছু সন্তোষজনক হলে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করা হয়।
কোন ধরনের কাজে এই ঋণ ব্যবহার করা যায়?
ঋণের উদ্দেশ্য অবশ্যই উৎপাদনশীল বা আয়বর্ধক হওয়া উচিত। সাধারণভাবে নিচের ধরনের উদ্যোগের জন্য ঋণ গ্রহণ করা যায়।
- মুদির দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা।
- দর্জির কাজ ও পোশাক তৈরির উদ্যোগ।
- হস্তশিল্প উৎপাদন ও বিক্রয়।
- গবাদিপশু পালন।
- হাঁস-মুরগি পালন।
- মাছ চাষ।
- কৃষিভিত্তিক উৎপাদন।
- অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা।
- কম্পিউটার, প্রিন্টিং বা সেবামূলক উদ্যোগ।
ব্যাংক সাধারণত এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়, যা থেকে নিয়মিত আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
ঋণ অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ানোর কার্যকর উপায়
অনেক আবেদনকারী মনে করেন প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র থাকলেই সহজে ঋণ পাওয়া যাবে। বাস্তবে ব্যাংক আবেদনকারীর সামগ্রিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
- বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন।
- সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিখিতভাবে উপস্থাপন করুন।
- যদি আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে সেই ব্যবসার তথ্য দেখান।
- প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে জমা দিন।
- ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
- প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদ সংযুক্ত করুন।
কোন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে?
সব আবেদন অনুমোদিত হয় না। কিছু সাধারণ কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- অসম্পূর্ণ বা ভুল কাগজপত্র।
- ব্যবসার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত না হওয়া।
- ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা প্রমাণ করতে না পারা।
- আগের কোনো ঋণ দীর্ঘদিন বকেয়া থাকা।
- ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে আবেদন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়া।
আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কারণ জেনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করা যেতে পারে।
সরকারি সহায়তা ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ
ব্যাংকের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগও রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা সময়ে সময়ে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ, আত্মকর্মসংস্থান সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অনেকেই ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক সহায়তা পান।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন নীতির আওতায় ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অর্থায়নে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক সুযোগ পাচ্ছেন।
ঋণ নেওয়ার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন
ঋণ একটি আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই শুধু অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নয়, ভবিষ্যতে সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি না সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।
- কত টাকা প্রয়োজন তা বাস্তবভাবে নির্ধারণ করুন।
- অপ্রয়োজনীয় বেশি ঋণ গ্রহণ করবেন না।
- কিস্তির সময়সূচি ভালোভাবে বুঝে নিন।
- চুক্তিপত্র পড়ে স্বাক্ষর করুন।
- ঋণের অর্থ শুধুমাত্র নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করুন।
- ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সংরক্ষণ করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১। বাংলাদেশে কি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যাংক রয়েছে?
না। শুধুমাত্র প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যাংক নেই। তবে সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন।
২। প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র থাকলেই কি ঋণ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়?
না। পরিচয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়। আবেদনকারীর ব্যবসার পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা, নথিপত্র এবং ব্যাংকের নীতিমালাও সমানভাবে বিবেচিত হয়।
৩। কোন ব্যাংকে আগে যোগাযোগ করা ভালো?
সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ নিকটস্থ সরকারি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় শাখা থেকেই বর্তমান কর্মসূচি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
৪। নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য কি ঋণ পাওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ। যদি ব্যবসার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত হয় এবং ব্যাংকের শর্ত পূরণ করা যায়, তাহলে নতুন উদ্যোগের জন্যও ঋণের আবেদন করা যায়।
৫। কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়?
ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। এটি ব্যাংকের নীতিমালা, প্রকল্পের ধরন, আবেদনকারীর সক্ষমতা এবং ঋণ কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
৬। জামিনদার কি সব সময় প্রয়োজন হয়?
সব ঋণের ক্ষেত্রে নয়। কিছু কর্মসূচিতে জামিনদার বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হতে পারে, আবার কিছু ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচিতে শর্ত তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
৭। অনলাইন ব্যবসার জন্য কি ঋণ নেওয়া যায়?
যদি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে এবং আয়ের সম্ভাবনা দেখানো যায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
৮। ঋণ অনুমোদন হতে কত সময় লাগে?
এটি নির্দিষ্ট নয়। কাগজপত্র যাচাই, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে সময় কম বা বেশি লাগতে পারে।
৯। ঋণের জন্য কোথা থেকে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে?
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা, ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা উচিত, কারণ নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
১০। আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি কী?
একটি সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, সম্পূর্ণ কাগজপত্র এবং ঋণ পরিশোধের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে এবং অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ায়।
সম্পাদকীয় নোট
এই নিবন্ধটি প্রস্তুত করার সময় সরকারি নীতিমালা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক বিদ্যমান কর্মসূচি পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেহেতু ঋণ নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা অথবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে কোনো ব্যাংক শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী পরিচয়ের ভিত্তিতে ঋণ অনুমোদন করে না; আবেদনকারীর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, পরিশোধের সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা জেনে নেওয়া, বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সম্পূর্ণ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা সফল আবেদনের সম্ভাবনা বাড়ায়। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে এই ধরনের অর্থায়ন একজন প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্বনির্ভরতার শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

