সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম, সুদের হার ও সুবিধা ২০২৬
বাংলাদেশে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্থ সঞ্চয় এবং নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার একটি পরিচিত সরকারি ব্যবস্থা হলো সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যোগ্য নারী এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সঞ্চয়ব্যবস্থা খুঁজছেন এমন অনেক মানুষের কাছে এটি পরিচিত। সাধারণভাবে অনেকেই “সুদের হার” বললেও সরকারি নথিতে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে “মুনাফার হার” শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে শুধু কোন সঞ্চয়পত্রে কত শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়, সেটি জানলেই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের পরিমাণ, ক্রয়ের যোগ্যতা, উৎসে কর, আয়কর রিটার্নসংক্রান্ত নিয়ম, মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন এবং প্রযোজ্য বিনিয়োগসীমাও বিবেচনায় রাখা দরকার। ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য আগের ছয় মাসে কার্যকর মুনাফার হার বহাল রাখা হয়েছে।
এই নির্দেশিকায় বর্তমান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রধান চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার, কারা কিনতে পারবেন, বিনিয়োগসীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কর এবং আগাম নগদায়নের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের বর্তমান মুনাফার হার
বর্তমান কাঠামোতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য একটি হার এবং এর বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা হার রয়েছে। নিচের মেয়াদান্ত মুনাফার হারগুলো ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য প্রযোজ্য।
| সঞ্চয়পত্র | মেয়াদ | ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত | ৭.৫ লাখ টাকার বেশি | একক নামে সর্বোচ্চ |
|---|---|---|---|---|
| পরিবার সঞ্চয়পত্র | ৫ বছর | ১১.৯৩% | ১১.৮০% | ৪৫ লাখ টাকা |
| পেনশনার সঞ্চয়পত্র | ৫ বছর | ১১.৯৮% | ১১.৮০% | ৫০ লাখ টাকা |
| ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র | ৫ বছর | ১১.৮৩% | ১১.৮০% | ৩০ লাখ টাকা |
| ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র | ৩ বছর | ১১.৮২% | ১১.৭৭% | ৩০ লাখ টাকা |
উপরের হারগুলো মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত বহাল রাখার ক্ষেত্রে ঘোষিত মুনাফার হার। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রযোজ্য বছরভিত্তিক হারে মুনাফা পুনর্গণনা হতে পারে।
প্রকাশিত শতাংশ হলো ঘোষিত মুনাফার হার। মুনাফা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য হারে অগ্রিম কর কাটা হলে হাতে পাওয়া অর্থ ঘোষিত হিসাবের তুলনায় কম হতে পারে। তাই সম্ভাব্য প্রাপ্তি হিসাবের সময় কর কর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
কোন সঞ্চয়পত্র কার জন্য
সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কেনার যোগ্যতা এক নয়। ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র নির্ধারিত শর্তে সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকরা কিনতে পারেন। পরিবার সঞ্চয়পত্র ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারী, বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি পুরুষ নির্ধারিত শর্তে কিনতে পারেন। পেনশনার সঞ্চয়পত্র নির্ধারিত শ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী এবং বিধি অনুযায়ী যোগ্য পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগীদের জন্য প্রযোজ্য।
তাই বেশি হার দেখে সঞ্চয়পত্র বেছে নেওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন। যোগ্যতা না থাকলে পরিবার বা পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা
প্রতিটি সঞ্চয়পত্রের নিজস্ব বিনিয়োগসীমার পাশাপাশি সমন্বিত বিনিয়োগসীমাও প্রযোজ্য হতে পারে। সাধারণ বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে একক নামে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমসমূহে সমন্বিত বিনিয়োগসীমা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। পেনশনারসহ বিশেষ শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নতুন সঞ্চয়পত্র কেনার আগে আগের বিনিয়োগসহ বর্তমান সমন্বিত সীমা যাচাই করুন।
উদাহরণ হিসেবে, পরিবার সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। অন্য জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে আগে থেকে বিনিয়োগ থাকলে নতুন সঞ্চয়পত্র কেনার আগে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ মিলিয়ে নিন।
সঞ্চয়পত্র কিনতে কী কী কাগজপত্র লাগে
সাধারণভাবে নির্ধারিত আবেদনপত্র, ক্রেতার ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য, নমিনির ছবি ও পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ক্রেতা ও নমিনির নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। সঞ্চয়পত্র ও ইস্যু কেন্দ্রভেদে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।
১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর শনাক্তকরণ তথ্য ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হয়। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পেনশন, আনুতোষিক বা ভবিষ্য তহবিলসংক্রান্ত অনুমোদিত নথিও প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ইস্যু অফিসের হালনাগাদ কাগজপত্রের তালিকা যাচাই করুন।
ধাপে ধাপে সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম
প্রথমে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে সঞ্চয়পত্র নির্বাচন করুন এবং বিনিয়োগের পরিমাণ ঠিক করুন। এরপর আবেদনপত্র পূরণ করে পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক তথ্য, নমিনি তথ্য এবং প্রযোজ্য করসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করুন। বর্তমানে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা ইস্যু কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্র কেনা ও নগদায়ন করা যাচ্ছে, তা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য থেকে যাচাই করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে নামের বানান, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল নম্বর ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে রসিদ ও ইস্যু-সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর
বর্তমান আয়কর বিধান অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়ার সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কর্তনের বিধান রয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে এই কর্তিত অর্থ চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য না হয়ে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নে কর্তিত কর সমন্বয় করা বা অতিরিক্ত কর্তিত অর্থ ফেরতের দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে।
এ কারণে ঘোষিত মুনাফার হার এবং অর্থ পাওয়ার সময় হাতে আসা পরিমাণ এক নাও হতে পারে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক মুনাফার সম্ভাব্য প্রাপ্তি হিসাবের সময় প্রযোজ্য অগ্রিম কর কর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন।
মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙলে কী হয়
মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা যায়, তবে পূর্ণ মেয়াদের ঘোষিত মুনাফার হার পাওয়া যায় না। কত বছর পর নগদায়ন করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে নির্ধারিত কম হারে মুনাফা হিসাব হয়। আগে বেশি মুনাফা দেওয়া হয়ে থাকলে মূল টাকা থেকে সমন্বয়ও হতে পারে।
যাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তারা বিনিয়োগের মেয়াদ ও আগাম নগদায়নের শর্ত আগে বিবেচনা করতে পারেন। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য অর্থ আলাদা রাখলে মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়নের প্রয়োজন কমতে পারে।
সঞ্চয়পত্রের প্রধান সুবিধা
সঞ্চয়পত্র একটি সরকারি সঞ্চয় ব্যবস্থা, যেখানে নির্ধারিত শর্ত ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফা দেওয়া হয় এবং নমিনি রাখার সুযোগ রয়েছে। পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, আর ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নির্ধারিত সময় পরপর মুনাফা পাওয়া যায়। মেয়াদপূর্তিতে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মূল অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
সঞ্চয়পত্র তুলনা করার সময় যোগ্যতা, কর কর্তনের পর সম্ভাব্য প্রাপ্তি, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং কখন অর্থের প্রয়োজন হতে পারে এই বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়। শুধু ঘোষিত সর্বোচ্চ মুনাফার হার দেখে নির্বাচন করলে আগাম নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত প্রাপ্তি কম হতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে কোন সঞ্চয়পত্র বিবেচনা করা যায়
পরিবার সঞ্চয়পত্রের যোগ্য ব্যক্তিরা নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার বৈশিষ্ট্যটি বিবেচনা করতে পারেন। যোগ্য পেনশনভোগীদের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রধান চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ মেয়াদান্ত হার রয়েছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ বিবেচনায় রাখতে পারলে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তুলনামূলক কম মেয়াদে নির্ধারিত সময় পরপর মুনাফা পেতে চাইলে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তুলনা করা যেতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে যোগ্যতা, কর এবং আগাম নগদায়নের নিয়ম মিলিয়ে নিন।
সঞ্চয়পত্র সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার কত?
প্রধান চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদান্ত মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ। তবে এটি শুধু নির্ধারিত যোগ্যতার পেনশনভোগীরা কিনতে পারেন।
২. ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে কি হার কমে?
হ্যাঁ। বর্তমান স্তরভিত্তিক কাঠামোতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উচ্চতর হার এবং তার বেশি বিনিয়োগে কিছুটা কম হার প্রযোজ্য। বিনিয়োগের অঙ্ক ঠিক করার সময় এই পার্থক্য ধরতে হবে।
৩. ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে কী অতিরিক্ত নথি লাগে?
১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিচয়, ব্যাংক হিসাব, নমিনি এবং প্রযোজ্য কর শনাক্তকরণ তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট ইস্যু অফিসের চাওয়া অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।
৪. পরিবার সঞ্চয়পত্র কি সব পুরুষ কিনতে পারেন?
না। পরিবার সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারী, বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি পুরুষ নির্ধারিত শর্তে এটি কিনতে পারেন।
৫. সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে বর্তমানে কত হারে কর কাটা হয়?
বর্তমান বিধান অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়ার সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কর্তনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই কর্তিত অর্থ এখন চূড়ান্ত করদায় নয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নে তা সমন্বয় করা বা অতিরিক্ত কর্তিত অর্থ ফেরতের দাবি করা যেতে পারে।
৬. সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি ব্যাংক হিসাবে আসে?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও অর্থ পরিশোধের জন্য নিবন্ধিত ব্যাংক হিসাবের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করার সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং পরবর্তীতে সেই তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা দরকার।
৭. মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা যায় কি?
হ্যাঁ, নির্ধারিত নিয়মে আগেও নগদায়ন করা যায়। তবে পূর্ণ মেয়াদের হার পাওয়া যায় না; সংশ্লিষ্ট বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য হারে মুনাফা পুনর্গণনা হয় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত মুনাফা সমন্বয় করা হয়।
৮. একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী মোট কত টাকা রাখতে পারেন?
সাধারণ বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে একক নামে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমসমূহে সমন্বিত বিনিয়োগসীমা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে যে সঞ্চয়পত্রটি কেনা হচ্ছে তার নিজস্ব বিনিয়োগসীমাও মানতে হবে।
৯. আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের হার কি নতুন ঘোষণায় বদলে যায়?
সাধারণভাবে সঞ্চয়পত্র ইস্যুর সময় প্রযোজ্য মুনাফার হার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের জন্য কার্যকর থাকে। পরবর্তী সময়ে নতুন হার ঘোষণা করা হলে তা নতুন করে ইস্যু হওয়া সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। নিজের সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে কোন হার কার্যকর তা ইস্যুর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত করুন।
১০. সঞ্চয়পত্র কেনার আগে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা দরকার?
কর কর্তনের পর সম্ভাব্য প্রাপ্তি, বিনিয়োগের মেয়াদ, আগাম নগদায়নের নিয়ম, নিজের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য বিনিয়োগসীমা একসঙ্গে বিবেচনা করা যায়। স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে কি না, সেটিও আগে ভেবে দেখা দরকার।
উপসংহার
২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্র সরকারি সঞ্চয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে প্রধান চার ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণভেদে ১১.৭৭ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মেয়াদান্ত মুনাফার হার রয়েছে। সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নিজের যোগ্যতা, বিনিয়োগসীমা, অগ্রিম কর, প্রয়োজনীয় নথি, মেয়াদ এবং আগাম নগদায়নের নিয়ম মিলিয়ে দেখুন। সরকারি নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার সময় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ প্রকাশিত নির্দেশনা যাচাই করুন।

