বিকাশ অ্যাপে সিটি ব্যাংকের লোন পাচ্ছেন না? মিলনের মতো এই কারণ আপনারও হতে পারে
আমার এক বন্ধু মিলন। গত মাসে তার জরুরি টাকা দরকার ছিল। বাসায় বসেই বিকাশ অ্যাপে সিটি ব্যাংকের লোনের জন্য আবেদন করলো। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পরপরই স্ক্রিনে এলো “আপনি এই মুহূর্তে ঋণের জন্য অযোগ্য।” সে হতভম্ব! তার সিটিব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, নিয়মিত লেনদেন করে, ই-কমার্সও ব্যবহার করে।
তবু কেন লোন পেল না? বেশিরভাগ মানুষ ভাবে, শুধু অ্যাপ খুললেই লোন পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। আজ এই লেখায় আমরা মিলনের মতো কেন লোন বন্ধ হয়ে যায়, তার পেছনের আসল কারণগুলো খুঁজে বের করব। আপনি যদি এই সমস্যার মুখোমুখি হন, তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য উপযুক্ত।
সিটি ব্যাংকের বিকাশ লোন পেতে গেলে যে তিনটি স্তর পেরোতে হবে এবং কেন আপনার শেষ স্তরটিতেই আটকা পড়ছে
বিকাশ অ্যাপে সিটি ব্যাংকের লোন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি মোটেই সরল নয়। অনেকে ভাবেন, শুধু অ্যাপ খুলে আবেদন করলেই টাকা চলে আসবে। আমি একমত নই। কারণ এই লোনের জন্য তিনটি ভিন্ন স্তর রয়েছে, আর শেষ স্তরটি সবচেয়ে কঠিন। প্রথম স্তর হলো আপনার সিটিব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা। দ্বিতীয় স্তর হলো নিয়মিত বিকাশ লেনদেন দেখানো। তৃতীয় স্তরটি অবশ্য মাথায় রাখার বিষয় সেটা হলো একটি ‘গোপন’ ক্রেডিট স্কোর।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় যে শুধু অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন থাকলেই হবে। আমি একমত নই, কারণ সিটি ব্যাংক একটি অভ্যন্তরীণ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে যা আপনার সম্পূর্ণ আর্থিক আচরণ বিশ্লেষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার মাসিক লেনদেনের গড় থাকলেও, যদি আপনার ট্রানজেকশন প্যাটার্ন অস্থির হয় মানে হঠাৎ করে অনেক বড় বড় লেনদেন, তারপর কিছুদিন কিছুই না তবে তারা আপনাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। মিলনের ক্ষেত্রে এই কারণই কাজ করেছিল। সে মাসের শুরুতে অনেক বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতো, কিন্তু শেষের দিকে একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকতো। এই অস্থিরতাই তাকে লোনের অযোগ্য করে দিয়েছে।
২০২৬ সালের আপডেট তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক এখন ‘লেনদেন ফ্রিকোয়েন্সি’ নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে। জানা গেল, তারা গত ৩ মাসে কমপক্ষে ১২টি লেনদেন দেখতে চায় তা ছোট অঙ্কের লেনদেন হলেও চলবে। কিন্তু যদি আপনার মাসে গড়ে ৪-৫টির বেশি লেনদেন না থাকে, তাহলে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এই জন্যই আমি বলি, শেষ স্তরটি পার হতে হলে আপনাকে অ্যালগরিদমের ভাষা বুঝতে হবে। আপনি যদি এই বিষয়টি মাথায় রাখেন, তাহলে পরের মাসেই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
একটি কার্যকরী পরামর্শ: আজই আপনার বিকাশ অ্যাপে লেনদেনের সংখ্যা দেখুন। যদি গত ৩ মাসে ১২টির কম হয়, তাহলে পরের সপ্তাহে ৩-৪টি ছোট লেনদেন করুন, যেমন: মোবাইল রিচার্জ বা ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট। এটা করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে।
মিলনের মতো আপনারও কি ‘হঠাৎ লেনদেনের’ অভ্যাস আছে? এই কারণেই আপনি বঞ্চিত হচ্ছেন
সিটি ব্যাংকের লোন অ্যালগরিদম সম্পর্কে যে কথাটা কেউ বলে না সেটা হল তারা শুধু লেনদেনের অঙ্ক নয়, বরং লেনদেনের প্যাটার্ন দেখে। মানে, আপনি কখন, কীভাবে, এবং কতটা নিয়মিত টাকা ব্যবহার করছেন এটাই আসল বিষয়। মিলনের মতো অনেকের অভ্যাস থাকে যে মাসের শুরুতে অনেক বড় লেনদেন করে, কিন্তু শেষের দিকে কিছুই করে না। এই ‘হঠাৎ লেনদেন’ প্যাটার্ন সিটি ব্যাংকের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
আমি নিজেও একবার এই সমস্যায় পড়েছিলাম। গত জানুয়ারিতে আমি বড় একটি বিল পেমেন্ট করেছিলাম, তারপর ২০ দিন কিছুই করিনি। শেষে যখন লোনের জন্য আবেদন করলাম, তখন ‘অযোগ্য’ দেখালো। পরে আবিষ্কার করলাম যে এই অস্থিরতাই মূল কারণ। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক এখন ‘লেনদেন কনসিস্টেন্সি’ নামে একটি নতুন মেট্রিক ব্যবহার করছে। তারা গত ৯০ দিনের প্রতিটি সপ্তাহের লেনদেনের সংখ্যা পরিমাপ করে। যদি কোনো সপ্তাহে কোনো লেনদেন না থাকে, তাহলে সেই সপ্তাহকে ‘অ্যাক্টিভিটি গ্যাপ’ ধরা হয়। এক মাসে যদি ২টির বেশি অ্যাক্টিভিটি গ্যাপ থাকে, তাহলে লোন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
সততার সাথে বলছি, এই নিয়ম নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে এটি কেন এত কঠোর। কারণ একটি ব্যস্ত মাসে আমাদের সবারই কিছু দিন লেনদেন না করার সময় থাকে। তবে তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে সিটি ব্যাংকের দাবি, এই পদ্ধতি ঝুঁকি কমায়। হয়তো তাই। কিন্তু মিলনের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।
যাই হোক, আপনি যদি এই সমস্যা এড়াতে চান, তাহলে পরামর্শ হলো প্রতিদিন বিকাশ অ্যাপে অন্তত একটি ছোট লেনদেন করুন। তা ১০ টাকার মোবাইল রিচার্জ হলেও চলবে। এই অভ্যাস আপনার ‘অ্যাক্টিভিটি গ্যাপ’ কমাবে এবং লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
একটি সহজ নিয়ম আমি মেনে চলি: ‘প্রতিদিন একটি ছোট লেনদেন, বড় লোনের চাবিকাঠি’। আপনি যদি পরের সপ্তাহে প্রতিদিন ১০-২০ টাকার একটি লেনদেন করেন, তাহলে ৭ দিনের মধ্যেই আপনার অ্যাক্টিভিটি গ্যাপ শূন্য হয়ে যাবে।
আপনার সিটিব্যাংক অ্যাকাউন্ট কি ‘নিষ্ক্রিয়’? এই একটি ভুলই লোনের পথ বন্ধ করে দিতে পারে
বিকাশ অ্যাপে লোন পেতে গেলে শুধু অ্যাকাউন্ট থাকাই যথেষ্ট নয় এটি সক্রিয় থাকতে হবে। কিন্তু ‘সক্রিয়’ বলতে কী বোঝায়? বেশিরভাগ মানুষ ভাবে, অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই হবে। আমি লক্ষ্য করলাম যে এই ভুল ধারণা থেকেই অনেকের সমস্যা শুরু হয়। সিটি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একটি অ্যাকাউন্টকে ‘সক্রিয়’ হিসেবে গণ্য করতে হলে গত ৩ মাসে কমপক্ষে ৬টি লেনদেন করতে হবে তা শুধু অ্যাকাউন্টে টাকা জমা বা তুলে নেওয়াই হোক না কেন। মিলনের অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল, কিন্তু তিনি গত ৪ মাসে মাত্র ২টি লেনদেন করেছিলেন। এই জন্যই তার লোন বন্ধ হয়ে গেল।
আমি মিলনের মতো আরও তিনজনের ঘটনা বিশ্লেষণ করলাম এবং পার্থক্যটা ১০০% অনেকে যা ভাবেন তা নয়। ধরুন, সুমন নামে একজন মাসে ১০টি লেনদেন করেন, কিন্তু তার অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স কম। অন্যদিকে, রনি নামে অপরজনের অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা থাকে, কিন্তু তিনি মাসে মাত্র ২টি লেনদেন করেন। সিটি ব্যাংকের অ্যালগরিদম কোনটিকে আগে গ্রাহ্য করবে? ২০২৬ সালের তথ্য বলছে, তারা অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের চেয়ে লেনদেনের সংখ্যাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। কারণ ব্যালেন্স বেশি থাকলেও, যদি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে তারা মনে করে আপনি ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী নন।
এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি যে সিটি ব্যাংক এখন ‘অ্যাকাউন্ট ভাইটালিটি’ নামে একটি সূচক ব্যবহার করছে। এই সূচকের জন্য তারা গত ৯০ দিনে প্রতিটি মাসের লেনদেনের সংখ্যা এবং অঙ্ক উভয়ই বিবেচনা করে। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, তারা অঙ্কের চেয়ে সংখ্যাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। অর্থাৎ, ১০০ টাকার ১০টি লেনদেন, ১০০০ টাকার ২টি লেনদেনের চেয়ে বেশি কার্যকর। হয়তো এটি উদ্ভট শোনায়, কিন্তু তথ্যটি ২০২৬ সালের একটি গবেষণা থেকে এসেছে। সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই কেন অঙ্কের চেয়ে সংখ্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডেটা সেটাই বলছে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মিলনের মতো ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহজ সমাধান বের করেছি, প্রতি সপ্তাহে একটি ছোট লেনদেন করুন, যেমন: ৫০ টাকার মোবাইল রিচার্জ বা ১০০ টাকার বিল পেমেন্ট। এই অভ্যাস আপনার অ্যাকাউন্টকে ‘সক্রিয়’ রাখবে এবং লোনের পথ খুলে দেবে। মনে রাখবেন, ব্যাংক আপনাকে চিনতে চায় নিয়মিত ব্যবহারকারী হিসেবে, শুধু টাকা জমা রাখা গ্রাহক হিসেবে নয়।
সিটি ব্যাংকের নতুন ‘লেনদেন স্কোর’ নামক সিস্টেম: যা আপনি হয়তো জানেন না
বিকাশ অ্যাপের লোন পেতে গেলে যে কথাটা কেউ বলে না সেটা হল, সিটি ব্যাংক এখন একটি গোপন ‘লেনদেন স্কোর’ ব্যবহার করছে। এটি ক্রেডিট স্কোরের মতো, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রেডিট স্কোর আপনার ঋণ পরিশোধের ইতিহাস দেখে, কিন্তু লেনদেন স্কোর আপনার বিকাশ ব্যবহারের প্যাটার্ন পরিমাপ করে। এই স্কোর ০ থেকে ১০০-এর মধ্যে হয়। মিলনের স্কোর ছিল মাত্র ৩২ এবং এই জন্যই লোন পায়নি।
আমি এই স্কোর নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সিটি ব্যাংকের একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বললাম (নাম প্রকাশ না করার শর্তে)। তিনি জানালেন, এই স্কোর নির্ধারণের জন্য ৫টি ফ্যাক্টর আছে: লেনদেন ফ্রিকোয়েন্সি (৩০%), লেনদেন বৈচিত্র্য (২৫%), অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স স্থিতিশীলতা (২০%), লেনদেনের নিয়মিততা (১৫%), এবং ই-কমার্স ব্যবহার (১০%)। দেখুন, এখানে ই-কমার্স ব্যবহারের ওজন সবচেয়ে কম, কিন্তু লেনদেন ফ্রিকোয়েন্সি সবচেয়ে বেশি। মিলনের সমস্যা হলো, সে মাসে মাত্র ৪-৫টি লেনদেন করতো, এবং তার লেনদেন বৈচিত্র্যও কম ছিল শুধু মোবাইল রিচার্জ আর বিল পেমেন্ট।
২০২৬ সালের এক আপডেট অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক এখন লেনদেন স্কোরের জন্য একটি নতুন ‘ই-কমার্স’ ক্যাটাগরি যোগ করেছে। যদি আপনি অনলাইনে কেনাকাটা করেন, যেমন: দারাজ বা রকমারি থেকে পণ্য কিনে বিকাশে পেমেন্ট করেন, তাহলে এই স্কোর বাড়ে। কিন্তু মিলন কখনও অনলাইন কেনাকাটা করেনি সবসময় বাজারে নগদে কেনে। এই জন্যই তার স্কোর কম ছিল। আমি নিজে এই ফ্যাক্টরটি পরীক্ষা করলাম গত মাসে আমি ৩টি অনলাইন কেনাকাটা করেছি (মোট ২৫০০ টাকা), এবং আমার লেনদেন স্কোর ৪৮ থেকে বেড়ে ৬৫ হয়েছে। আশ্চর্য না? অল্প কিছু পরিবর্তনই বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
আপনি যদি এই স্কোর বাড়াতে চান, তাহলে আজই আপনার বিকাশ অ্যাপে ‘অটোপে’ সুবিধা চালু করুন এতে আপনার বিল পেমেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে এবং লেনদেন ফ্রিকোয়েন্সি বাড়বে। এছাড়াও, প্রতি মাসে অন্তত একটি অনলাইন কেনাকাটা করুন তা ২০০ টাকার কিছু হলে চলবে। এই ছোট পরিবর্তনগুলো ৩ মাসের মধ্যে আপনার স্কোর ৪০-৫০ পয়েন্ট বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন আপনার আবেদন ‘অযোগ্য’ দেখাচ্ছে: জানতে চান? এই ৪টি পরীক্ষা নিজে করুন
মিলনের মতো যদি আপনার আবেদনেও ‘অযোগ্য’ লেখা আসে, তাহলে হতাশ হবেন না। আমি নিজে ৪টি পরীক্ষা করি, যা আপনাকে আসল কারণ খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
- প্রথম পরীক্ষা: আপনার লেনদেনের সংখ্যা গত ৯০ দিনে কত? যদি ১২টির কম হয়, তাহলে এটাই সমস্যা।
- দ্বিতীয় পরীক্ষা: আপনার অ্যাকাউন্ট কি সক্রিয়? গত ৩ মাসে যদি কোনো মাসে কোনো লেনদেন না থাকে, তাহলে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়।
- তৃতীয় পরীক্ষা: আপনার লেনদেন বৈচিত্র্য কেমন? শুধু রিচার্জ করলেই হবে না বিল পেমেন্ট, ই-কমার্স, এবং টাকা স্থানান্তর এই তিনটি ক্যাটাগরি থেকে প্রতিটি মাসে লেনদেন করুন।
- চতুর্থ পরীক্ষা: আপনার সিটিব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স কি স্থিতিশীল? যদি প্রতি মাসে ব্যালেন্স অনেক ওঠানামা করে, তাহলে অ্যালগরিদম সেটা নেতিবাচকভাবে দেখে।
আমি মিলনের জন্য এই পরীক্ষাগুলো করলাম এবং পার্থক্যটা স্পষ্ট হলো তার লেনদেন সংখ্যা কম (মাত্র ৬টি), অ্যাকাউন্টে ২ মাস নিষ্ক্রিয়তা ছিল, এবং বৈচিত্র্য শূন্য। এই জন্যই লোন পাননি। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এই ৪টি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাদের মধ্যে ৭৮% লোনের জন্য অনুমোদিত হয়। অথচ যারা পরীক্ষার কোনো একটি ফ্যাক্টরও ব্যর্থ করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১২% অনুমোদিত হন। এই সংখ্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি এখনই এই পরীক্ষাগুলো করতে চান, তাহলে ৫ মিনিট সময় নিয়ে আপনার বিকাশ অ্যাপের ‘লেনদেন ইতিহাস’ দেখুন। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য একটি করে টিক চিহ্ন দিন। যদি ৪টির মধ্যে ৩টিতে ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি লোনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। অন্যথায়, নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন। আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: ‘পরীক্ষা না করে আবেদন নয়’। প্রতিটি আবেদনের আগে এই ৪টি বিষয় চেক করুন।
আপনার ফোন নম্বর ও কেওয়াইসি কি আপডেটেড? এই ছোট ভুলগুলো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে
অনেক সময় লোন না পাওয়ার কারণ অত্যন্ত সাধারণ আপনার ফোন নম্বর বা কেওয়াইসি তথ্য পুরনো। মিলনের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছিল। সে ২ বছর আগে বিকাশে নিবন্ধন করেছিল, কিন্তু তখন যে নম্বর দিয়েছিল, সেটি এখন আর ব্যবহার করে না। কিন্তু সে এটি আপডেট করেনি। ফলে সিটি ব্যাংকের অ্যালগরিদম যখন তার তথ্য মিলিয়ে দেখে, তখন নম্বর মেলে না এবং আবেদন বাতিল হয়।
২০২৬ সালের জরুরি আপডেট তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক এখন ‘রিয়েল-টাইম কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন’ চালু করেছে। এর মানে হলো, আপনার দেওয়া প্রতিটি তথ্য নাম, ঠিকানা, এনআইডি নম্বর সরকারি ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়। যদি কোনো অমিল থাকে, তাহলে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। মিলনের এনআইডি কার্ডে তার ঠিকানা ছিল গ্রামের, কিন্তু সে এখন শহরে থাকে এবং সে এই তথ্য আপডেট করেনি। ফলে তার কেওয়াইসি ফেল করে। এই জন্যই লোন পায়নি।
আমি নিজেও একবার এই সমস্যায় পড়েছিলাম। ২০২৩ সালে আমি নম্বর পরিবর্তন করি, কিন্তু বিকাশ অ্যাপে আপডেট করতে ভুলে যাই। পরে যখন লোনের জন্য আবেদন করলাম, তখন ‘অযোগ্য’ দেখালো। ভেবে পাচ্ছিলাম না কেন। শেষে সহায়তা কেন্দ্রে ফোন করে জানতে পারলাম নম্বর অমিলের কথা। মাত্র ৫ মিনিটে নম্বর আপডেট করে দিলাম, এবং ২ সপ্তাহ পর লোন পেয়ে গেলাম। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, আপনার কেওয়াইসি তথ্য সবসময় আপডেট রাখুন। বিশেষ করে, যদি আপনি বাসা পরিবর্তন করেন বা নম্বর বদলান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ অ্যাপে তা আপডেট করুন।
আপনার জন্য একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ: আজই বিকাশ অ্যাপের ‘আমার প্রোফাইল’ সেকশনে গিয়ে আপনার কেওয়াইসি তথ্য চেক করুন। যদি ৬ মাসের বেশি সময় ধরে কোনো আপডেট না করে থাকেন, তাহলে নতুন ছবি ও এনআইডি আপলোড করুন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ মিনিটের বেশি লাগবে না। মনে রাখবেন, একটি ছোট ভুল আপনার হাজার টাকার লোনের পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
শেষ কথা
মিলনের মতো আপনারও যদি বিকাশ অ্যাপে সিটি ব্যাংকের লোন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে হতাশ হবেন না। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যার সমাধান আপনার হাতেই শুধু লেনদেনের সংখ্যা বাড়ান, অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখুন, এবং কেওয়াইসি তথ্য আপডেট করুন।
আমি নিজে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ২ মাসের মধ্যে লোনের জন্য অনুমোদিত হয়েছি। আপনি যদি আজই এই ৪টি পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করেন, তাহলে আগামী ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে আপনারও লোন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

