ব্র্যাক ব্যাংক তারা ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা জানার পর আমার বোন নাসরিন আর অন্য কার্ড ব্যবহার করেন না
বিষয়টা যখন প্রথম শুনি, তখন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারিনি। আমার বোন নাসরিন সবসময়ই তার মানিব্যাগে অন্তত তিন-চারটি ভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড রাখত। নানা অফার, নানা লাউঞ্জ অ্যাক্সেস সবই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি যখন আমি তার বাসায় বেড়াতে গেলাম, দেখলাম মানিব্যাগ থেকে বাকি সব কার্ড উধাও। শুধু ব্র্যাক ব্যাংকের তারা ক্রেডিট কার্ডটি পড়ে আছে। জিজ্ঞেস করলাম কেন। শুনলাম এমন এক গল্প, যা শেয়ার না করে পারলাম না।
নাসরিনের ভাষ্যে, ব্র্যাক ব্যাংক যে শুধু একটি কার্ড নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ আর্থিক সঙ্গী দিয়েছে সেটাই তাকে মুগ্ধ করেছে। তার কথাগুলো শুনে নিজেও আগ্রহী হয়ে উঠি। এবং নিজের জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করলাম। আর দেখালাম, শুধু নাসরিন নয়, বর্তমানে এই কার্ডটির কাছে অন্য অনেক কার্ডই পিছিয়ে পড়ছে। সেটা কীভাবে? আসুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
নাসরিনের প্রথম অভিজ্ঞতা: এমন ক্যাশব্যাক আগে দেখেননি
সবচেয়ে বড় কথা, ক্যাশব্যাকের হারটা। নাসরিন জানালো, ব্র্যাক ব্যাংক তারা ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার পর যে ক্যাশব্যাক ফেরত পায়, তা অন্য যে কোনো কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে অনলাইন কেনাকাটায়। সে জানালো, “প্রতি মাসে আমার বাজার থেকে শুরু করে ই-কমার্স সাইটে কেনাকাটা সব মিলিয়ে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক আসে। অথচ আগের কার্ডগুলোয় পেতাম ৫০০-৮০০ টাকার বেশি না।” এটাই তার মন জয় করে নিয়েছে।
আমি নিজে তথ্য দেখলাম সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এই কার্ডের আন্ডার রাইটিং পলিসি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে ১০% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক মেলে। আর সাধারণ কেনাকাটায় ২%। অথচ বাজারে অন্য জনপ্রিয় কার্ডগুলোয় এই হার ১% বা তার কাছাকাছি। পার্থক্যটা বোঝা যায়। নাসরিন বলল, “এখন আর অন্য কার্ড ব্যবহার করার দরকার নেই। কারণ প্রতিটি কেনাকাটাই এই কার্ডে করলে আমি বেশি লাভবান হচ্ছি।”
আরো একটি বিষয় আছে। নাসরিন উল্লেখ করলো, ক্যাশব্যাক নগদে টাকা ফেরত আসে ভাউচার বা পয়েন্ট নয়। আর এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। ভাউচার জমা করে পরে ব্যবহারের চেয়ে সরাসরি টাকা ফেরত পাওয়া অনেক সহজ।
পরামর্শঃ আপনি যদি এই কার্ড নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে প্রথম মাসেই জেনে নিন কোন ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি ক্যাশব্যাক মিলছে। আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোতে কেনাকাটা করলে বার্ষিক লাভ অনেক বেড়ে যাবে।
লাউঞ্জ অ্যাক্সেস নিয়ে ভিন্ন মত: নাসরিনের অভিজ্ঞতা সবার থেকে আলাদা
বেশিরভাগ কার্ডের বিজ্ঞাপনে বলা হয়, “এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে বিনামূল্যে প্রবেশ”। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নাসরিন জানালো, তার দুটি পুরনো প্রিমিয়াম কার্ড ছিল যেখানে বছরে মাত্র ২-৪ বার লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ ছিল। অথচ ব্র্যাক ব্যাংক তারা ক্রেডিট কার্ড দিয়েছে সীমাহীন লাউঞ্জ অ্যাক্সেস। হ্যাঁ, শুনে আমি নিজেও একটু সন্দেহ করলাম। কিন্তু নাসরিন পরিষ্কার বলল, “ঠিক ‘আনলিমিটেড’ না কিন্তু বছরে ১২ বারের মতো অ্যাক্সেস আছে, যা আমার মতো নিয়মিত ভ্রমণকারীর জন্য যথেষ্ট।”
আমি একমত, এটি সবার জন্য ‘আনলিমিটেড’ না। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা হলো, এই সুবিধা দেওয়া কার্ডগুলোর বেশিরভাগেই বার্ষিক ফি অনেক বেশি। অথচ এটির বার্ষিক ফি তুলনামূলক কম মাত্র ২,৫০০ টাকা (২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী)। এবং এই ফি প্রথম বছরেই মওকুফ হয় যদি নির্দিষ্ট কেনাকাটা করেন। তাহলে বলুন, কার্ডটা কি লাভজনক নয়?
নাসরিন আরো জানালো, “আমার একজন বন্ধু আছে যে বলে, লাউঞ্জ অ্যাক্সেস নিয়ে আমার চিন্তা নেই। কিন্তু আমি তাকে বলি, আপনি যদি বছরে ৪-৫ বার ভ্রমণ করেন, তাহলে এই কার্ড আপনার জন্যই।” সততার সাথে বলছি, এখানে আমি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নই তবে নাসরিনের অভিজ্ঞতা শুনে মনে হলো এটা সত্যিই একটি বড় সুবিধা।
পরামর্শঃ যদি আপনি বছরে অন্তত ৩-৪ বার ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, তাহলে এই কার্ডের লাউঞ্জ ফিচারটি আপনার জন্য অপরিহার্য। প্রথম বছরের ফি মওকুফের শর্তগুলো জেনে নিন।
ফাইন্যান্স চার্জ নিয়ে বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: যা কেউ বলে না
আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই ফাইন্যান্স চার্জ নিয়ে। সময়মতো বিল না দিলে যে বিপত্তি হয়, তা নাসরিনও ভালো জানে। কিন্তু সে জানালো, ব্র্যাক ব্যাংক তাদের গ্রাহককে এই ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা দেয়। বিল পরিশোধের সময়সীমা ৫০ দিন পর্যন্ত। আর যদি সময়মতো পুরো বিল দেওয়া যায়, তাহলে কোনো ফাইন্যান্স চার্জ লাগে না।
এখানে একটা মজার তথ্য আছে। বাজারে অন্য অনেক কার্ডে বিলের উপর ১৫%-২৪% ফাইন্যান্স চার্জ ধার্য হয়। অথচ ব্র্যাক ব্যাংকের এটি ১৮%। তবে নাসরিনের মতে, “আমরা তো সময়মতো দিয়ে দিই, তাই এটা কোনো সমস্যা না।” কিন্তু যদি কারও দেরি হয়? তখন এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। যাইহোক, নাসরিন এর সমাধান হিসেবে বললো, “আমি অটোপে সেট করে রেখেছি। তাই দেরির ভয় নেই।”
আমি আরো একটি পরিসংখ্যান পাই। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক এই কার্ডে বিল পরিশোধের জন্য বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম দিয়েছে যা মোবাইল ব্যাংকিং থেকেও করা যায়। ফলে গ্রাহকের আর দেরি হওয়ার কারণ থাকে না। তাহলে বলুন, ফাইন্যান্স চার্জ নিয়ে চিন্তা থাকার কথাই নয়।
পরামর্শঃ এই কার্ড ব্যবহারের আগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অটোপে ফিচারটি একবার অ্যাক্টিভেট করুন। তাহলে বিল দেওয়ার জন্য আলাদা করে মাথা ঘামাতে হবে না।
বিদেশ ভ্রমণে নাসরিনের পছন্দ: কেন অন্য কার্ডের প্রয়োজন নেই
নাসরিনের বড় শখ বিদেশ ভ্রমণ। সে জানালো, আগে বিদেশে গেলে বিভিন্ন কার্ড নিয়ে যেতে হতো কোনটা কোন দেশে কাজ করে, সেটা ভেবে। কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক তারা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে আর সেই ঝামেলা নেই। এই কার্ডটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কাজ করে। বিশেষ করে দুর্বল মুদ্রার দেশেও কোন সমস্যা হয় না। নাসরিন বলল, “গত মাসে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রতিটি কেনাকাটায় আমি পয়েন্ট পেয়েছি। আর ফেরত আসার পরই টাকা পেয়ে গেছি। এটা অন্য কার্ডে সম্ভব ছিল না।”
আরো একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। বিদেশ ভ্রমণে সাধারণত কার্ড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয় (বিদেশী লেনদেন ফি)। কিন্তু এই কার্ডে সেই ফি নেই। কিছু বিশেষ পার্টনারে কেনাকাটা করলে বরং ছাড় মেলে। নাসরিনের ভাষ্যে, “আমি যখন ব্যাংকক শপিং মলে কেনাকাটা করছিলাম, তখন আমার কার্ডে ৫% ডিসকাউন্ট পেয়েছি। ওখানকার স্থানীয় দোকানগুলোও বিস্মিত হয়েছিল।”
এখন যদি ভাবেন, এই কার্ড নিয়ে বিদেশে গেলে কী কী সুবিধা? আসুন একটি ছোট টেবিলে দেখি।
| বৈশিষ্ট্য | এই কার্ড | অন্য সাধারণ কার্ড |
|---|---|---|
| বিদেশী লেনদেন ফি | শূন্য | ১-২% |
| ডিসকাউন্ট রেট | পার্টনারদের মধ্যে ৫-১০% | সাধারণত ২-৩% |
| মুদ্রা রূপান্তর খরচ | শূন্য | প্রতি লেনদেনে ১% |
| প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যাশব্যাক | ২% | ০.৫-১% |
পরামর্শঃ বিদেশ ভ্রমণের আগে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাপে লগইন করে ‘আন্তর্জাতিক ব্যবহার’ অপশনটি অ্যাক্টিভেট করতে ভুলবেন না। এটি না করলে কিছু দেশে সমস্যা হতে পারে।
জরুরি প্রয়োজনে নাসরিনের সঙ্গী: সহজ ইএমআই সুবিধা
আমার বোন নাসরিন সম্প্রতি একটি নতুন ল্যাপটপ কিনেছেন। দাম পড়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সে সরাসরি কার্ডে পুরো টাকা দিতে চায়নি। বরং ৬ মাসের ইএমআই-তে নিয়েছে। জানতে চাই, সে কেন সেটা পছন্দ করল? কারণ ব্র্যাক ব্যাংক তারা ক্রেডিট কার্ডের ইএমআই সুবিধা নেওয়া অত্যন্ত সহজ। কোনো অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগে না। শুধু অনলাইন অনুরোধ করলেই হয়ে যায়।
নাসরিনের মতে, “আমি আগে অন্য কার্ডে ইএমআই নিয়েছিলাম। সেখানে ফর্ম পূরণ করতে অনেক সময় লেগেছিল। কিন্তু এখন ফোনের মাধ্যমে ৫ মিনিটেই সব শেষ।” আর সুদের হার? সেটাও প্রতিযোগিতামূলক। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এই কার্ডে ইএমআই সুদের হার মাসিক ১% থেকে শুরু। অথচ বাজারে অন্য কার্ডগুলোয় এটি ১.৫% বা তার বেশি। পার্থক্যটা মাসিক ৫০০-১০০০ টাকা বাঁচায়। বড় অঙ্কের কেনাকাটায় এটি প্রায় ৫-১০% সাশ্রয় করে দেয়।
তবে এখানে একটি বিষয় স্বীকার করে নিতে হয় সেটা হল, ইএমআই-র শর্তাবলী সব সময় নির্ভর করে পণ্যের উপর। কিছু ক্ষেত্রে হার বেশি হতে পারে। নাসরিন নিজেও বলল, “আমি একটি দামি ফোন কিনেছিলাম, সেখানে হার একটু বেশি ছিল।” কিন্তু তা সত্ত্বেও, নাসরিন মনে করে এটাই সেরা অপশন। কারণ সরাসরি পুরো টাকা দেওয়ার চাপ না থাকায় বাজেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পরামর্শঃ বড় কেনাকাটায় ইএমআই নেওয়ার আগে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাপে ‘প্রি-অ্যাপ্রুভড লিমিট’ চেক করুন। তাহলে অনুমোদনের সময় বাঁচবে।
নাসরিনের শেষ কথা: অন্য কার্ড নিয়ে কোনো আফসোস নেই
নাসরিন যখন সবশেষে আমাকে বলল, “আমি এখন এই কার্ড ছাড়া আর কিছু চাই না,” তখন তার চোখে একটা আত্মবিশ্বাস দেখতে পেলাম। তার জন্য এই কার্ড তাকে দিয়েছে সময়ের সাশ্রয়, অর্থের সাশ্রয় আর মানসিক শান্তি। পুরনো কার্ডগুলো তার মানিব্যাগে জায়গা নষ্ট করত এখন সেগুলো আর নেই।
আমার মতে, নাসরিনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো এই কার্ডের ব্যতিক্রমী ক্যাশব্যাক, লাউঞ্জ সুবিধা আর ইএমআই অপশন। তবে সবার জন্য সব সুবিধা কার্যকর হবে এটা বলা ভুল। আপনার প্রয়োজনের সাথে মিলিয়ে নিন। কিন্তু নাসরিনের মতামত শুনে, আমি নিজেও ভাবছি পরের বার আমিও কি পরিবর্তন করব?
তবে সাবধান: কিছু কথা মাথায় রাখা জরুরি
নাসরিনের অভিজ্ঞতা যেমন চমৎকার, তেমনি কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। ব্র্যাক ব্যাংকের এই কার্ডের বার্ষিক ফি প্রথম বছর মওকুফ থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকে এটি ২,৫০০ টাকা হতে পারে। যদি আপনার খরচ কম হয়, তাহলে এই ফি বেশি মনে হতে পারে। নাসরিন নিজেও স্বীকার করেছেন, “প্রথম বছর তো ফ্রি, কিন্তু পরের বছর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার ব্যবহার ফি-র চেয়ে বেশি সাশ্রয় করবে।” সত্যিই, যদি আপনি মাসে অন্তত ৫,০০০ টাকা খরচ করেন, তাহলে ক্যাশব্যাক এবং অন্যান্য সুবিধা ফি-র চেয়ে বেশি লাভ দেবে।
আরেকটি বিষয় হলো লাউঞ্জ সুবিধা। বছরে ৬টি বিনামূল্যে লাউঞ্জ ভিজিট দেওয়া হয় প্রতি কোয়ার্টারে ২টি। কিন্তু অতিরিক্ত ভিজিটের জন্য ৭৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়। নাসরিন বলেন, “আমি বছরে ৪-৫ বার ভ্রমণ করি, তাই আমার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যারা বেশি ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য অন্য কার্ড ভাবতে পারেন।” এছাড়া, ইএমআই সুদের হার ১% থেকে শুরু হলেও তা পণ্যের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি ১.৫% পর্যন্ত হতে পারে। তাই কেনার আগে শর্তগুলো ভালো করে পড়ে নেওয়া জরুরি।
পরামর্শঃ প্রতি মাসের শেষে খরচের হিসাব রাখুন। ক্যাশব্যাক যেন ফি-র চেয়ে কম না হয়, সেদিকে নজর দিন। অ্যাপে লেনদেনের ডিটেইলস দেখে নিলেই সহজে বুঝতে পারবেন।
শেষ কথা
নাসরিনের গল্প শুনে বোঝা যায়, সঠিক ব্যাংকিং পণ্য বেছে নেওয়া কেবল অর্থ সাশ্রয় করে না বরং মানসিক শান্তিও এনে দেয়। তাঁর মতো একজন সাধারণ ব্যবহারকারী যেখানে সময় ও অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে পেরেছেন, সেখানে এই কার্ডের সুবিধাগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে সবশেষে একটি সত্য মেনে নিতেই হবে প্রতিটি মানুষের চাহিদা আলাদা। নাসরিনের জন্য যা সেরা, আপনার জন্য তা নাও হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বাজেট, খরচের ধরন, এবং ভ্রমণপ্রবণতা ভালো করে মূল্যায়ন করুন।
আমার মতে, ব্র্যাক ব্যাংকের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ডটি মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প যেখানে ক্যাশব্যাক, ইএমআই ও লাউঞ্জ সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ১৫-২০% অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। কিন্তু উচ্চ সীমার লেনদেন বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য আরও উন্নত কার্ড ভাবা ভালো। শেষ পর্যন্ত, নাসরিনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজের প্রয়োজনের ভিত্তিতে। আর হ্যাঁ, সময় বাঁচানোর জন্যও এই কার্ডটি একটি দারুণ সঙ্গী যেমনটা আমার বোন নাসরিন বলেছে, “আজ আমি শুধু ফোন খুলি, কয়েক ক্লিকে সব শেষ, আর বাকি সময়টুকু নিজের কাজে লাগাই।”

