চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো করবেন যেভাবে
চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অনেক প্রার্থী ইংরেজিকে তুলনামূলক কঠিন বিষয় মনে করেন। বিশেষ করে গ্রামারের নিয়ম, নতুন শব্দের অর্থ, ইডিয়মস অ্যান্ড ফ্রেজেস, বাক্য সংশোধন কিংবা লিখিত অংশের অনুবাদ একসঙ্গে প্রস্তুত করতে গিয়ে অনেকে কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতে পারেন না। কিন্তু ইংরেজিতে ভালো করার জন্য অসংখ্য বই শেষ করার চেয়ে সঠিক বিষয় নির্বাচন, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের ভুল শনাক্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নের ধরন এক নয়। তবে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় গ্রামার, শব্দভান্ডার, বাক্যের ব্যবহার, অনুধাবন ও লিখিত দক্ষতার গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বর্তমানে প্রকাশিত বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য অংশে ৩৫ নম্বর নির্ধারিত আছে। বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আবশ্যিক ইংরেজির পূর্ণমান ২০০। তাই শুধু কয়েকটি গ্রামারের নিয়ম মুখস্থ না করে পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী ভাষা, অনুধাবন, লেখা ও অনুবাদের দক্ষতা একসঙ্গে অনুশীলন করা প্রয়োজন। পরীক্ষার কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে, তাই প্রস্তুতির সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সর্বশেষ সিলেবাস মিলিয়ে নিন।
ইংরেজি প্রস্তুতির কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার পাশাপাশি আগের ভুল কমানো। আপনার লক্ষ্য শুধু বইয়ের পৃষ্ঠা শেষ করা নয়; যে ধরনের প্রশ্নে বারবার ভুল হচ্ছে সেগুলো শনাক্ত করে ধীরে ধীরে ঠিক করা। নিয়মিত অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের দুর্বল অংশগুলো ধাপে ধাপে শক্ত করা যায়।
প্রথমে নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করুন
প্রস্তুতির শুরুতেই বিগত চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন থেকে অন্তত ৫০টি ইংরেজি প্রশ্ন সময় ধরে সমাধান করুন। উত্তর দেওয়ার সময় বই বা নোট দেখবেন না। পরীক্ষা শেষে ভুলগুলো কয়েকটি ভাগে লিখুন, যেমন গ্রামার, ভোকাবুলারি, বানান, প্রিপজিশন, ইডিয়মস, বাক্য সংশোধন ও সাহিত্য। এতে খুব দ্রুত বোঝা যাবে আপনার প্রধান সমস্যা কোথায়। যার টেন্স ভালো কিন্তু ভোকাবুলারি দুর্বল, তার প্রস্তুতির পরিকল্পনা এমন একজনের মতো হওয়া উচিত নয় যার মূল সমস্যা বাক্য গঠন। এই ছোট পরীক্ষাটিই আপনার পরবর্তী পড়াশোনার দিক ঠিক করে দিতে পারে।
গ্রামারে সবকিছু নয়, পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় অংশ আগে শিখুন
চাকরির পরীক্ষার জন্য গ্রামার পড়ার সময় বিষয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার তৈরি করা জরুরি। পার্টস অব স্পিচ, টেন্স, ভার্ব, প্রিপজিশন, ডিটারমিনার, নাম্বার, জেন্ডার, সাবজেক্ট-ভার্ব অ্যাগ্রিমেন্ট, ক্লজ, ভয়েস এবং সেন্টেন্স ট্রান্সফরমেশনের মতো বিষয়গুলো নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসেও এসব বিষয়ের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একটি নিয়ম পড়ার পর সেই নিয়মের অন্তত ১০ থেকে ১৫টি প্রশ্ন সমাধান করুন। শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ করলে পরীক্ষার প্রশ্নে নিয়মটি চিনতে সমস্যা হতে পারে।
ভোকাবুলারি মুখস্থ না করে স্মৃতি থেকে মনে করার অভ্যাস করুন
একদিনে ৫০টি নতুন শব্দ দেখে পরদিন অধিকাংশ ভুলে যাওয়ার চেয়ে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক শব্দ শেখা এবং বই না দেখে সেগুলো মনে করার অনুশীলন বেশি কার্যকর হতে পারে। একটি শব্দ শেখার সময় বাংলা অর্থের পাশাপাশি সিনোনিম, অ্যান্টোনিম এবং একটি ছোট বাক্যে তার ব্যবহার বুঝুন। এরপর বই বন্ধ করে শব্দটির অর্থ মনে করার চেষ্টা করুন। পরের দিন, তিন দিন পরে, সাত দিন পরে এবং দুই সপ্তাহ পরে আবার যাচাই করতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক সময়সূচি নয়; নিজের ভুলের হার অনুযায়ী ব্যবধান পরিবর্তন করুন।
শব্দের আলাদা খাতা নয়, ভুলের খাতা তৈরি করুন
চাকরিপ্রার্থীদের একটি পরিচিত সমস্যা হলো শত শত শব্দের নোট তৈরি করা, কিন্তু সেগুলোর খুব অল্প অংশ নিয়মিত দেখা। এর পরিবর্তে একটি ছোট ভুলের খাতা রাখুন। যে শব্দের অর্থ ভুল করেছেন, যে প্রিপজিশনে বিভ্রান্ত হয়েছেন অথবা যে গ্রামারের নিয়ম বারবার ভুল হচ্ছে শুধু সেগুলো সেখানে লিখুন। প্রতি সপ্তাহে দেখবেন খাতাটি আসলে আপনার ব্যক্তিগত সিলেবাসে পরিণত হয়েছে। এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো আপনি ইতিমধ্যে জানা বিষয় বারবার পড়ে সময় নষ্ট না করে দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিতে পারবেন।
বিগত বছরের প্রশ্নকে প্রস্তুতির কেন্দ্র বানান
গ্রামারের একটি অধ্যায় শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট বিগত প্রশ্ন সমাধান করা উচিত। এতে কোন নিয়ম কীভাবে প্রশ্নে রূপ নেয় তা বোঝা যায়। শুধু উত্তর মিলিয়ে চলে যাবেন না। ভুল উত্তর হলে কেন ভুল হলো এবং সঠিক বিকল্পটি কেন সঠিক সেটিও লিখুন। একই ধরনের ভুল দ্বিতীয়বার হলে সেটিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করুন। প্রশ্নপত্রভিত্তিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, নতুন প্রশ্ন যতটা প্রয়োজন তার চেয়ে নিজের পুরোনো ভুল দ্বিতীয়বার না করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
রিডিংয়ের মাধ্যমে বাক্য বুঝতে শেখুন
প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট মানসম্মত ইংরেজি লেখা পড়লে ভোকাবুলারি, বাক্যগঠন এবং কম্প্রিহেনশন একসঙ্গে উন্নত করা যায়। পড়ার সময় প্রতিটি অজানা শব্দের অর্থ খুঁজতে থেমে গেলে পাঠের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। প্রথমে বাক্যের প্রসঙ্গ থেকে অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। গুরুত্বপূর্ণ বা বারবার দেখা অজানা শব্দগুলো পরে যাচাই করুন। একটি অনুচ্ছেদ পড়ার পর নিজের ভাষায় এর মূল বক্তব্য বলার চেষ্টা করলে লিখিত পরীক্ষার সামারি এবং কম্প্রিহেনশন অংশের প্রস্তুতিতেও সহায়তা হবে।
লিখিত পরীক্ষার জন্য আলাদা অনুশীলন প্রয়োজন
প্রিলিমিনারির বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ভালো করলেই লিখিত ইংরেজিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো করা যায় না। লিখিত পরীক্ষার জন্য নিয়মিত হাতে লিখে অনুশীলন দরকার। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত বিসিএস লিখিত ইংরেজি সিলেবাসে রিডিং কম্প্রিহেনশন, গ্রামার ও ব্যবহার, সামারি, সম্পাদক বরাবর চিঠি, রচনা এবং বাংলা ও ইংরেজি উভয় দিকের অনুবাদ রয়েছে। তাই সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন ছোট অনুবাদ, সামারি এবং নির্ধারিত শব্দসীমায় লেখা অনুশীলন করুন। লেখার পরে বানান, বাক্যগঠন এবং একই শব্দের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা করুন।
প্রতিদিনের পড়াশোনাকে তিন ভাগে ভাগ করুন
ইংরেজির জন্য এক ঘণ্টা সময় পেলে প্রথম ২০ মিনিট আগের পড়া পুনরাবৃত্তি, পরের ২০ মিনিট নতুন বিষয় এবং শেষ ২০ মিনিট প্রশ্ন সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন। সময় বেশি বা কম হলে একই অনুপাত নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করা যায়। প্রতিদিন শুধু নতুন অধ্যায় পড়লে পুরোনো বিষয় ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আবার শুধু প্রশ্ন সমাধান করলে দুর্বল ধারণাগুলো পরিষ্কার হয় না। শেখা, মনে করা এবং প্রয়োগ করা এই তিনটি কাজের সমন্বয়েই প্রস্তুতি বেশি ফলপ্রসূ হয়।
সপ্তাহে অন্তত একটি সময় ধরে পরীক্ষা দিন
ঘরে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন সমাধান করা এবং পরীক্ষার চাপের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে উত্তর দেওয়ার অভিজ্ঞতা এক নয়। তাই সপ্তাহে একটি মডেল পরীক্ষা সময় ধরে দিন। পরীক্ষার পরে শুধু নম্বর দেখবেন না। ভুলের সংখ্যা, অনুমানের কারণে ভুল, সময়ের অভাবে বাদ যাওয়া প্রশ্ন এবং জানা বিষয় ভুল করার সংখ্যা আলাদাভাবে হিসাব করুন। কয়েক সপ্তাহের তথ্য পাশাপাশি রাখলে আপনার উন্নতি বাস্তবে হচ্ছে কি না তা বোঝা যাবে।
৩০ দিনের একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি পদ্ধতি
প্রথম ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামারের ভিত্তি ঠিক করার পাশাপাশি প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক ভোকাবুলারি শিখুন। দ্বিতীয় ১০ দিনে বিগত প্রশ্ন, বাক্য সংশোধন, প্রিপজিশন, ইডিয়মস এবং দুর্বল অধ্যায়ে বেশি সময় দিন। শেষ ১০ দিনে নতুন বিষয় কমিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রশ্ন সমাধান, ভুলের খাতা এবং পুনরাবৃত্তির ওপর জোর দিন। লিখিত পরীক্ষা সামনে থাকলে প্রতিদিন একটি ছোট অনুবাদ অথবা অনুচ্ছেদ লেখার অভ্যাস যোগ করুন। এক মাসে ইংরেজির সবকিছু শেষ করার চেষ্টা না করে পরীক্ষায় কাজে লাগে এমন দক্ষতায় ধারাবাহিক উন্নতি করাই বেশি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।
পরীক্ষার হলে নির্ভুলতাকে গুরুত্ব দিন
প্রশ্ন দেখে পরিচিত মনে হলেই দ্রুত উত্তর চিহ্নিত করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বানান, প্রিপজিশন, সিনোনিম, অ্যান্টোনিম এবং বাক্য সংশোধনের প্রশ্নে বিকল্পগুলো পুরোপুরি পড়ুন। যে পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটার বিধান থাকে সেখানে অযথা অনুমান আরও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা আগে পড়ে নিন। প্রথমে নিশ্চিত প্রশ্ন, এরপর চিন্তা করে সমাধানযোগ্য প্রশ্ন এবং শেষে অনিশ্চিত প্রশ্ন দেখার কৌশল সময় ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে।
যেসব ভুল ইংরেজি প্রস্তুতিকে ধীর করে
একসঙ্গে অনেক বই শুরু করা, শুধু নিয়ম মুখস্থ করা, প্রতিদিন অতিরিক্ত নতুন শব্দ শেখা, বিগত প্রশ্ন না দেখা এবং ভুল প্রশ্ন পুনরায় সমাধান না করা প্রস্তুতির সাধারণ দুর্বলতা। আরেকটি সমস্যা হলো কয়েক দিন অনেক পড়ার পর দীর্ঘ বিরতি দেওয়া। ইংরেজি এমন একটি দক্ষতা যেখানে অল্প হলেও নিয়মিত সংযোগ বেশি কার্যকর। আপনার পড়ার উৎস সীমিত রাখুন, কিন্তু একই বিষয় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নে প্রয়োগ করুন। প্রয়োজন হলে বই পরিবর্তনের আগে নিজের অনুশীলনের পদ্ধতি পরিবর্তন করে দেখুন।
চাকরির পরীক্ষার ইংরেজি নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. চাকরির পরীক্ষার ইংরেজি প্রস্তুতি কোথা থেকে শুরু করব?
প্রথমে বিগত প্রশ্ন থেকে একটি ছোট পরীক্ষা দিয়ে নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করুন। এরপর গ্রামারের মৌলিক অংশ, ভোকাবুলারি এবং বিগত প্রশ্ন এই তিনটি একসঙ্গে শুরু করুন। শুরুতেই বিশাল সিলেবাস শেষ করার পরিকল্পনা করলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
২. প্রতিদিন কতক্ষণ ইংরেজি পড়া প্রয়োজন?
সময় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হবে। নিয়মিত এক ঘণ্টার মনোযোগী প্রস্তুতিও কার্যকর হতে পারে, যদি সেখানে পুনরাবৃত্তি, নতুন শেখা এবং প্রশ্ন সমাধান থাকে। পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে নিজের দুর্বলতা অনুযায়ী সময় বাড়ানো যেতে পারে।
৩. গ্রামারের নিয়ম কীভাবে বেশি দিন মনে রাখব?
প্রতিটি নিয়ম শেখার পর সঙ্গে সঙ্গে উদাহরণ ও প্রশ্ন সমাধান করুন। কয়েক দিন পর বই না দেখে নিয়মটি মনে করার চেষ্টা করুন। ভুল হলে আবার ব্যাখ্যা পড়ুন। একই নিয়ম বিভিন্ন বাক্যে প্রয়োগ করতে পারলে সেটি দীর্ঘদিন মনে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
৪. প্রতিদিন কতটি নতুন ভোকাবুলারি শেখা ভালো?
সবার জন্য একই সংখ্যা কার্যকর নয়। এমন সংখ্যা বেছে নিন যা পরের দিন স্মৃতি থেকে মনে করতে পারেন। নতুন ৩০টি শব্দ দেখে অধিকাংশ ভুলে যাওয়ার চেয়ে ১০টি শব্দ ভালোভাবে শেখা এবং নিয়মিত পুনরাবৃত্তি বেশি উপকারী হতে পারে।
৫. শুধু বিগত প্রশ্ন পড়লে কি ইংরেজিতে ভালো করা সম্ভব?
বিগত প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নয়। প্রশ্নে ব্যবহৃত নিয়ম বুঝতে মৌলিক গ্রামার এবং পর্যাপ্ত শব্দভান্ডার প্রয়োজন। বিগত প্রশ্নকে পরীক্ষার ধরন বোঝার মাধ্যম এবং নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করুন।
৬. ইংরেজি সাহিত্য কি চাকরির পরীক্ষার জন্য পড়তে হবে?
এটি পরীক্ষার সিলেবাসের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি সাহিত্যও সিলেবাসের অংশ। অন্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় কাঠামো আলাদা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সিলেবাস দেখে প্রস্তুতির অগ্রাধিকার ঠিক করুন।
৭. অনুবাদে ভালো হওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?
প্রতিদিন ছোট বাক্য দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অনুচ্ছেদে যান। শব্দে শব্দে অনুবাদের পরিবর্তে মূল অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে স্বাভাবিক বাক্য তৈরির চেষ্টা করুন। পরে নিজের লেখা মূল বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাকরণ, শব্দ নির্বাচন ও বাক্যের স্বাভাবিকতা পরীক্ষা করুন।
৮. মডেল পরীক্ষা কখন থেকে শুরু করা উচিত?
সব অধ্যায় শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। প্রস্তুতির শুরুর দিক থেকেই ছোট বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দেওয়া যায়। মৌলিক প্রস্তুতি কিছুটা এগোলেই সপ্তাহে একটি পূর্ণাঙ্গ সময়ভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করুন। এতে সময় ব্যবস্থাপনা ও ভুলের ধরন দ্রুত বোঝা যায়।
৯. অনেক পড়েও নম্বর না বাড়লে কী করব?
তখন পড়ার সময় বাড়ানোর আগে ভুল বিশ্লেষণ করুন। আপনি কি একই ধরনের প্রশ্নে বারবার ভুল করছেন, নাকি জানা উত্তর তাড়াহুড়ায় ভুল হচ্ছে তা খুঁজে বের করুন। নম্বর না বাড়ার কারণ শনাক্ত হলে পড়াশোনাও আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা যায়।
১০. ইংরেজিতে দুর্বল হলে কি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব?
ইংরেজিতে দুর্বল হলেও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে উন্নতি করা সম্ভব। প্রথমে মৌলিক গ্রামার ও বহুল ব্যবহৃত শব্দ দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন অল্প করে প্রশ্ন সমাধান করুন এবং ভুলগুলো পুনরায় দেখুন। নির্দিষ্ট সময় পর নিজের পরীক্ষার ফল, ভুলের সংখ্যা ও সময় ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে অগ্রগতি যাচাই করুন। অন্যের প্রস্তুতির গতির সঙ্গে তুলনা না করে নিজের দুর্বলতা কমানোর দিকে নজর দিন।
উপসংহার
চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে ভালো করার জন্য সিলেবাস জানা, নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় গ্রামার বোঝা, শব্দভান্ডার নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করা এবং বিগত প্রশ্ন অনুশীলন করা জরুরি। শুধু কতক্ষণ পড়ছেন তা নয়, কতটা মনে রাখতে পারছেন এবং একই ভুল কতটা কমছে সেটিও নিয়মিত যাচাই করুন। সীমিত কিন্তু ধারাবাহিক প্রস্তুতি ইংরেজিকে ধীরে ধীরে আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে পারে এবং পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
তথ্যসূত্র
বিসিএসের নম্বর বণ্টন ও পরীক্ষার বিষয় সম্পর্কে তথ্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত সিলেবাস থেকে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার সিলেবাস বা নম্বর বণ্টন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পরীক্ষার আগে কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ও সিলেবাস দেখে নেওয়া উচিত।

