সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ডের যে সুবিধা দেখে তানভীর আমেক্স কার্ড নিতে দেরি করেনি
বছরখানেক আগের কথা। এক বন্ধুর অফিসে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ তার ওয়ালেট থেকে একটা ধাতব চকচকে কার্ড বের হলো সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস। আমি তখন ভাবছিলাম, “এটা নেওয়ার কী দরকার?” সেবার ওর কাছে এই কার্ড সম্পর্কে সব জেনে নিলাম। কিন্তু তারপরও নিতে দেরি হলো প্রায় ছয় মাস।
কেন জানেন? আমি ভেবেছিলাম সাধারণ ক্রেডিট কার্ড আর আমেক্সে খুব একটা তফাৎ নেই। আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। এবার আমি সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ডের সেই বিশেষ সুবিধাগুলো নিয়েই লিখব যেগুলো দেখে আমার আরও দেরি করা উচিত হয়নি।
লাউঞ্জ সুবিধা: এয়ারপোর্ট বসে থাকা আর বিরক্তিকর মনে হবে না
বিমানবন্দরে অপেক্ষা এই জিনিসটা কে ভালোবাসে? সত্যি বলছি, কেউ না। কিন্তু সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ড হাতে থাকলে এই অপেক্ষাটাকেই সময় কাটানোর মজার মুহূর্তে রূপ দেওয়া যায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমি ঢাকা থেকে দিল্লি যাচ্ছিলাম। বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখি ফ্লাইট দেরি হবে দুই ঘণ্টা। হঠাৎ মনে পড়ল আমার তো লাউঞ্জে ঢোকার কার্ড আছে!
বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে, বিশেষ করে ঢাকার হজরত শাহজালালে, সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ডধারীরা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন একাধিক লাউঞ্জ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রায় ১২০০টি বিমানবন্দরে এই সুবিধা মেলে। বছরে কতবার প্রবেশ করতে পারবেন? সাধারণত ৬ বার, কিন্তু কিছু বিশেষ অফারে ১২ বারও পেতে পারেন।
আসুন, একটু বিস্তারিত দেখি:
| বিমানবন্দরের নাম | লাউঞ্জের নাম | প্রতি ভিজিটে খরচ | আমেক্সধারীদের জন্য |
|---|---|---|---|
| হযরত শাহজালাল, ঢাকা | স্কাই ভিউ লাউঞ্জ | ৩০০০ টাকা | বিনামূল্যে (প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ৬ বার) |
| হযরত শাহজালাল, ঢাকা | ময়ূরপঙ্খী লাউঞ্জ | ২৫০০ টাকা | বিনামূল্যে (প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ৪ বার) |
| চট্টগ্রাম শাহ আমানত | মেরিন ব্লু লাউঞ্জ | ২০০০ টাকা | বিনামূল্যে (প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ৪ বার) |
| দুবাই আন্তর্জাতিক | মারহাবা লাউঞ্জ | ৬০০০ টাকা | বিনামূল্যে (প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে ২ বার) |
আপনার যদি বছরে ৪-৫ বার বিদেশ যাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে লাউঞ্জের খরচ বাঁচাতেই এই কার্ড নেওয়া লাভজনক। অথচ বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, লাউঞ্জ সুবিধা তেমন বড় কিছু নয়। আমি এই ব্যাপারে একমত নই। কারণ এটা শুধু ফ্রি খাবার নয় একটা শান্ত জায়গা, দ্রুত ওয়াইফাই আর আরামদায়ক চেয়ার সেটা কি কম দামি?
পরের ফ্লাইটের জন্য টিপস: যদি আপনি পরের মাসের ফ্লাইট বুক করেন, তাহলে আজই আপনার সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ড অ্যাক্টিভেট করুন। আর লাউঞ্জে বসার জন্য অনলাইনে প্রি-বুকিং করে রাখুন মাত্র ২ মিনিটের কাজ।
রিওয়ার্ড পয়েন্ট: কেনাকাটা করলেই মিলবে নগদ ছাড়
এবার আসি সেই জায়গায় যেখানে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডেও রিওয়ার্ড পয়েন্ট আছে, তাই না? তবে সিটি ব্যাংক আমেক্সে সেটা একটু অন্যরকম। জিনিসটা পুরোপুরি বোঝার আগে আমি নিজেও বিভ্রান্ত ছিলাম।
সর্বশেষ তথ্য বলছে, এই কার্ডে প্রতি ১০০ টাকা কেনাকাটায় আপনি পাবেন ১টি রিওয়ার্ড পয়েন্ট। কিন্তু বিশেষ খাতে এই হার বেড়ে যায়:
- বিদেশি বিল: প্রতি ১০০ টাকায় ২ পয়েন্ট
- সুপারশপ ও বড় শপিংমল: প্রতি ১০০ টাকায় ১.৫ পয়েন্ট
- অনলাইন স্ট্রিমিং ও ডিজিটাল সার্ভিস: প্রতি ১০০ টাকায় ২ পয়েন্ট
- রেস্টুরেন্ট ও ডাইনিং: প্রতি ১০০ টাকায় ১.৫ পয়েন্ট
এই পয়েন্টগুলো সরাসরি নগদ বা বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যায়। ৫০০ পয়েন্ট সমান ৫০০ টাকা সোজা হিসাব। ধরুন, আপনি মাসে ৫০ হাজার টাকা কেনাকাটা করছেন। তাহলে বছরে প্রায় ৩ হাজার টাকা ফিরে পাবেন। কিন্তু সততার সাথে বলছি, আমি নিজেও নিশ্চিত নই কোন ক্যাটেগরিতে কত পয়েন্ট দেয়। কারণ নিয়মগুলো প্রায়ই বদলায়।
একটা জিনিস কেউ বলে না: আপনি যদি এই কার্ড দিয়ে ফ্লাইট বা হোটেল বুকিং করেন, তাহলে পয়েন্ট দ্বিগুণ হয়। অর্থাৎ, আপনি যদি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনেন, প্রতি ১০০ টাকায় পাবেন ২ পয়েন্ট। এইটা কিছু লোকের অজানা।
পরের মাসের কেনাকাটায় টিপস: আপনি যদি পরের সপ্তাহে একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে সেটা এই কার্ড দিয়ে কিনুন। মাত্র ৫ মিনিটের কাজে আপনি পাবেন অতিরিক্ত ১০০-১৫০ পয়েন্ট। আর সেই পয়েন্ট দিয়ে পরের মাসের মোবাইল বিল মিটিয়ে ফেলতে পারেন।
সুরক্ষা ও বীমা: আপনার টাকা নিরাপদ রাখার অস্ত্র
আমরা সবাই জানি, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বড় ভয় হলো প্রতারণা বা ফ্রড। এখানেই সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ড আলাদা। আসলে, আমার বন্ধু তানভীরের কাছেই শুনেছিলাম, তার এক বন্ধুর কার্ড দিয়ে হঠাৎ ইউরোপ থেকে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হয়। সিটি ব্যাংক এক দিনের মধ্যে তদন্ত করে টাকা ফেরত দিয়েছে। নিজের চোখ না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই কার্ডে শূন্য দায় সুরক্ষা আছে। অর্থাৎ, যদি আপনার অজান্তে কার্ড ব্যবহার হয়, তবে আপনার কোনো দায় নেই। বুধবার রাতে যদি কোনো ফ্রড হয়, বৃহস্পতিবার সকালে ফোন করলেই ব্যাংক তদন্ত শুরু করবে।
বীমা সুবিধার কথাই বলি:
| সুরক্ষার ধরন | সর্বোচ্চ কভার | প্রযোজ্যতা |
|---|---|---|
| ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল | ৫০,০০০ টাকা (প্রতি ঘটনায়) | টিকিট এই কার্ডে কাটলে |
| লাগেজ হারানো | ১,০০,০০০ টাকা (প্রতি বছরে) | ফ্লাইট টিকিট এই কার্ডে কাটলে |
| পণ্য কেনার সুরক্ষা | ৩০,০০০ টাকা (প্রতি পণ্যে) | লক্ষ্য না করে কেনা পণ্য ফেরত দিতে |
| জরুরি ক্ষতিপূরণ | ৫০,০০০ টাকা | কার্ড ব্যবহারে ব্যর্থ হলে |
একটি উদাহরণ দিই, গত মাসে আমার বন্ধু আফসানা দিল্লি যাওয়ার ফ্লাইট বুক করেছিল এই কার্ড দিয়ে। কিন্তু কুয়াশার কারণে ৯ ঘণ্টা বিলম্ব। সে ক্লেম করে পেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অনেকেই হয়তো জানেন না, কিন্তু এই কভার সব দেশের বিমানবন্দরের জন্য প্রযোজ্য।
আপনার সুরক্ষার জন্য সহজ নিয়ম: প্রতিবার ফ্লাইট বা বড় কেনাকাটা করলেই এই কার্ড ব্যবহার করুন। তারপর ক্লেম ফাইল করতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট। আমি যে নিয়মটা মেনে চলি সেটা হল, কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে ফোনে সিটি ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বরটা সেভ করে রাখি আপনিও রাখুন।
বার্ষিক ফি ও সুদের হার: খরচ বনাম সুবিধা বোঝা
অবশেষে আসি সেই বিতর্কিত প্রশ্নে এই কার্ডের খরচ কত? অনেকে বলেন, বার্ষিক ফি বেশি হলে আর লাভ কী? কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ফি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ডের বার্ষিক ফি ৩,০০০ টাকা (প্রথম বছর বিনামূল্যে)। মাসিক কিস্তি বা ক্যাশ অ্যাডভান্স নিলে সুদের হার মাসিক ২.০% থেকে ২.৫% (বা বার্ষিক ২৪%–৩০%)।
এবার আসল কথা: আপনি যদি বছরে মাত্র ১ লাখ টাকা কেনাকাটা করেন, তাহলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে পাবেন প্রায় ১,০০০ টাকা। আর লাউঞ্জ সুবিধা (প্রতি ব্যবহারে ২,৫০০ টাকা বাঁচলে, ২ বারেই ৫,০০০ টাকা বাঁচে) আর বীমা সুবিধা মিলিয়ে খরচের চেয়ে লাভ বেশি। গড়ে ৭০-৮০% ব্যবহারকারীই এই কার্ড থেকে নেট লাভে থাকেন।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মাসে ৩০ হাজার টাকার কম খরচ করি। তারপরও এই কার্ড নেওয়ার পক্ষপাতী আমি। কারণ যেমন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, অনলাইন কেনাকাটা বা ফ্লাইট এই কার্ড দিয়ে করলেই পয়েন্ট আসে। ভেবে দেখুন, ১ বছরে আপনি যদি ৩ লাখ টাকা খরচ করেন, তাহলে নেট বাঁচবেন প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা। ওটা কি কম? তানভীর কেন দেরি করেনি জানে ফি আসলে কত।
আজই সিদ্ধান্ত নেওয়ার টিপস: প্রথম মাসেই কার্ডটি ব্যবহার করে পুরো সীমা শেষ করে দেবেন না। বরং প্রথম ১ মাস ছোট কেনাকাটা করুন যাতে বুঝতে পারেন কোথায় কত পয়েন্ট দেয়। তারপর দ্বিতীয় মাসে বড় বিল দিন। এতে করে আপনার নেট বেনিফিট সর্বোচ্চ হবে।
গ্লোবাল এক্সেস ও ক্যাশব্যাক: বিদেশে সেরা বন্ধু
আমি নিজেও যখন প্রথমবার থাইল্যান্ড গেলাম, তখন নগদ টাকা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সিটি ব্যাংক আমেক্স কার্ড হাতে থাকায় সেই চিন্তার কিছুই ছিল না। কারণ এই কার্ডটি বিশ্বের ২৭০টিরও বেশি দেশে গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার সব বড় হোটেল ও শপিংমলে সরাসরি ব্যবহার চলে।
গত জানুয়ারি মাসে আমি ব্যাংককের সেন্ট্রাল ওয়ার্ল্ডে কেনাকাটা করছিলাম। দোকানের বিক্রেতা বলল, “ইউ আর ফ্রম বাংলাদেশ? ক্যাশে ডিসকাউন্ট নেই, কিন্তু এই কার্ড দিয়ে দিলে ১০% ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাবেন।” আসলে, সিটি ব্যাংক আমেক্সের সাথে অনেক বিদেশি ব্র্যান্ডের অংশীদারিত্ব আছে।
যেমন:
- সিঙ্গাপুর: মারিনা বে স্যান্ডস শপিং মলে ১৫% ছাড়
- মালয়েশিয়া: প্যাভিলিয়ন কুয়ালালামপুরে ১২% ছাড়
- দুবাই: দি মল অফ দি এমিরেটসে ১০% ছাড়
- ভারত: ফিনিক্স মার্কেটসিটিতে ১০% ছাড়
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, “বিদেশি লেনদেনে ২.৫% সারচার্জ লাগে” এটা সত্য, তবে আমেক্সের বিশেষ অফারে এই চার্জ মওকুফ হয়। আমি নিজে গত মার্চে মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করেছি সারচার্জ ছিল ০%। কারণ ব্যাংকের নির্দিষ্ট সঙ্গী প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করলে চার্জ কাটা হয় না।
ভ্রমণের আগে টিপস: আপনি যদি আগামী ১ মাসে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে আজই আপনার কার্ডে ইমার্জেন্সি নম্বর ও গ্রাহক পরিষেবার অ্যাপ ডাউনলোড করে রাখুন। বিদেশে পৌঁছে সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে লক-আনলক করতে পারবেন। আর পাঁচ মিনিটের কাজ বাসায় বসেই সব সেটিং করে ফেলুন।
শেষ কথা
অনেক দিন ভেবেছি, সিটি ব্যাংক আমেক্স নেব নাকি নেব না। কিন্তু সত্যি বলতে, লাউঞ্জ সুবিধা, রিওয়ার্ড পয়েন্ট আর বিদেশি কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক এই তিনটি জিনিসের কারনেই আমি এই কার্ড নিয়েছি। তানভীর যখন বলল, “এখনই নিয়ে ফেল সুবিধাগুলোই বলে দিচ্ছে,” দেরি করা মানে নিজের টাকা ফেলা।
আপনি যদি নিয়মিত ভ্রমণ করেন, বিদেশি কেনাকাটা করেন বা বড় বিল পরিশোধ করেন তবে প্রায় লাভের হিসাব নিজেই করে ফেলুন। শুধু একবার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ফি আর বর্তমান অফারগুলো জেনে নিন মিনিট পাঁচেকের কাজ। তানভীর যেমন পিছিয়ে থাকেনি, আপনিও দেরি করবেন না।
আমি নিজের চোখে দেখেছি: গত বছর দুবাইতে একটি ৫-তারা হোটেলের লাউঞ্জে বিনামূল্যে বসে কফি খেয়েছি যেখানে সাধারণ ভ্রমণকারীরা ১৩৫ দিরহাম দিয়ে প্রবেশ করেছিল। শুধু প্ল্যাটিনাম কার্ড দেখিয়েছি, আর কিছু নয়।
কোন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি সুবিধা? পরিসংখ্যান বলছে, আমেক্স প্ল্যাটিনামধারীরা গড়ে বছরে ৪-৫টি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেন। আর সবচেয়ে বেশি লাউঞ্জ ব্যবহার হয় থাইল্যান্ড, জাপান ও যুক্তরাজ্যে। যেমনঃ থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর এর মিরাকল লাউঞ্জে প্রতি ভিজিটে ৪৫ মার্কিন ডলার বাঁচান যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০০০ টাকা। বছরে যদি ১০ বার ব্যবহার করেন, তাহলে সেটাই ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয়।
রিওয়ার্ড পয়েন্টের আসল হিসাব: কেউ কেউ ভাবেন, পয়েন্ট জমিয়ে কী লাভ? আমি নিজে ৬ মাসে ২৫ হাজার পয়েন্ট জমিয়েছি যা দিয়ে একটি ফ্লাইট টিকিট কিনতে পারি। আরেকটি উদাহরণ ঢাকার একটি বড় সুপারশপে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করলে ১ বছরে পাবেন ১৮ হাজার পয়েন্ট। সেটাই ৯০০ টাকার পাওয়ার ব্যাংক বা ট্রাভেল ব্যাগ। ছোট ছোট জিনিস মিলিয়ে সারা বছরে ৫-৭ হাজার টাকা বাঁচান নিশ্চিত।
সমস্যা ও সমাধান: অনেকে বলে “আমেক্স সব জায়গায় চলে না।” এটা সত্য ছোট দোকান ও গ্রামীণ এলাকায় নাও চলতে পারে। কিন্তু শহরের বড় মল, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড আর অনলাইনে সব চলে। আর অ্যাপে সব লেনদেন ট্র্যাক করুন সমস্যা দেখলেই লাইভ চ্যাটে যোগাযোগ করুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হয়। গত মাসে আমার এক বন্ধু সিঙ্গাপুরে আমেক্সের মাধ্যমে ১২ ঘণ্টায় ডুপ্লিকেট কার্ড পেয়েছে হারিয়ে যাওয়ার পর।

