বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি ও কি কি
বাংলাদেশ বিমান আমাদের জাতীয় গর্ব। আকাশপথে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করে নিয়ে যায় এই সংস্থাটি। ভ্রমণ বা ব্যবসার প্রয়োজনে যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে যে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি এবং তারা বর্তমানে কোন কোন দেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার সেবার পরিধি বাড়িয়েই চলেছে। আজকের পোষ্টে আমরা বাংলাদেশ বিমানের বর্তমান রুট, ফ্লাইটের সংখ্যা এবং যাতায়াতের সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করব।
আরও জেনে নিনঃ কম্বোডিয়া কাজের বেতন
বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি ও কি কি
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে তাদের ডানা মেলেছে। অনেকের মনেই কৌতূহল থাকে যে বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি? সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২১টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই রুটগুলো এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিস্তৃত।
নিচে অঞ্চলভেদে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুটগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
বাংলাদেশ থেকে সবথেকে বেশি যাত্রী যাতায়াত করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। এই অঞ্চলের রুটগুলো হলো:
- ভারত: দিল্লি ও কলকাতা।
- নেপাল: কাঠমান্ডু।
- থাইল্যান্ড: ব্যাংকক।
- মালয়েশিয়া: কুয়ালালামপুর।
- সিঙ্গাপুর: সিঙ্গাপুর সিটি।
মধ্যপ্রাচ্যের রুট
প্রবাসীদের সুবিধার্থে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ বিমানের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে:
- সৌদি আরব: জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও দাম্মাম।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ।
- কাতার: দোহা।
- ওমান: মাস্কাট।
- কুয়েত: কুয়েত সিটি।
ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা
দূরপাল্লার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিমান বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শহরে ফ্লাইট পরিচালনা করে:
- যুক্তরাজ্য: লন্ডন ও ম্যানচেস্টার।
- কানাডা: টরন্টো।
- চীন: গুয়াংজু।
- জাপান: নারিতা।
বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হয় কত সালে
বাংলাদেশ বিমানের ইতিহাস বেশ গৌরবোজ্জ্বল। রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে। ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তবে সবার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হয় কত সালে?
প্রতিষ্ঠার ঠিক দুই মাস পর, অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশ বিমান প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। সেই ঐতিহাসিক ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তৎকালীন সময়ে ডিসি-১০ (DC-10) উড়োজাহাজের মাধ্যমে এই দীর্ঘ যাত্রা সম্পন্ন হয়। লন্ডনের পর পর্যায়ক্রমে কলকাতা ও ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বিশ্বজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে থাকে।
আরও জেনে নিনঃ জাপান যেতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশের প্রথম বিমান চালু হয় কত সালে
বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের ইতিহাস শুরু হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে। দেশের প্রয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে ১৯৭১ সালের ৪ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ এভিয়েশন’ এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম বিমান চালু হয় কত সালে তার সঠিক উত্তর হলো ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি।
শুরুতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ডিসি-৩ (DC-3) নামক একটি ছোট উড়োজাহাজ দিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরু করে। এই বিমানের প্রথম ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়েছিল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে। এরপর ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বড় বড় উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধির পরিকল্পনা
বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি তা আগামীতে আরও বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে ২১টি রুট থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নতুন গন্তব্য খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের অন্যান্য শহর এবং নিউইয়র্কের মতো রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিমানের কিছু লাভজনক রুট যেমন— লন্ডন, টরন্টো, দুবাই এবং সৌদি আরবের শহরগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু রুট যেমন ম্যানচেস্টার বা নারিতাতে যাত্রীর চাপ অনুযায়ী সময়সূচি সমন্বয় করা হয়। মূলত আধুনিক ড্রিমলাইনার যুক্ত হওয়ার ফলে এখন অনেক দীর্ঘ পথ বিরতিহীনভাবে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক সময়সূচি
বিদেশের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিমান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি এবং প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রধান কয়েকটি রুটের সময়সূচি নিচে একটি ছকের মাধ্যমে দেওয়া হলো:
জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক রুটের সময়সূচি তালিকা:
| গন্তব্য | ফ্লাইট নম্বর | উড্ডয়ন ও অবতরণ সময় | ফ্লাইটের সময়কাল |
| ঢাকা থেকে লন্ডন | BG-001 | উড্ডয়ন ১০:১০ AM – অবতরণ ০৪:২৫ PM | ১০ ঘণ্টা ১৫ মিনিট |
| ঢাকা থেকে দুবাই | BG-047 | উড্ডয়ন ০৬:৩০ PM – অবতরণ ০৯:৩০ PM | ৫ ঘণ্টা (প্রায়) |
| ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর | BG-084 | উড্ডয়ন ০৮:৩০ AM – অবতরণ ০২:১৫ PM | ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| ঢাকা থেকে টরন্টো | BG-305 | উড্ডয়ন ০৩:৩০ AM – অবতরণ ০১:৩০ PM | ১৬ ঘণ্টা (প্রায়) |
বিঃদ্রঃ আবহাওয়া, যান্ত্রিক কারণ বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশনায় এই সময়সূচি যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে অবশ্যই বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ সময়টি চেক করে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কয়টি
একটি দেশের এভিয়েশন খাতের মেরুদণ্ড হলো তার বিমানবন্দর। বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কয়টি তার উত্তর হলো মোট ৩টি। এই তিনটি বন্দর থেকেই বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হয়।
১. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা: এটি বাংলাদেশের প্রধান এবং বৃহত্তম বিমানবন্দর। ১৯৮০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখান থেকেই পরিচালিত হয়।
২. শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম: ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরটি পটিয়ার কাছে অবস্থিত এবং এটি চট্টগ্রামের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম।
৩. ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট: ১৯৯৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া কক্সবাজার এবং যশোর বিমানবন্দরকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। এই দুটি বিমানবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট আরও বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী সেবা আরও সহজ হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বাংলাদেশ বিমান বর্তমানে কয়টি দেশে যায়?
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বিশ্বের প্রায় ২১টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ বিমানের সবচেয়ে দীর্ঘতম রুট কোনটি?
ঢাকা থেকে কানাডার টরন্টো রুটটি বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের দীর্ঘতম রুট, যেখানে পৌঁছাতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
ঢাকা থেকে লন্ডন যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটে লন্ডন পৌঁছাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে।
বাংলাদেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোনটি?
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক রুট কয়টি তা সময়ের সাথে সাথে আরও বাড়ছে। আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থাটি তার সেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। ২১টি রুট দিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চললেও অদূর ভবিষ্যতে এটি আরও সম্প্রসারিত হবে। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সব সময়ই যাত্রীদের বিশ্বস্ত সঙ্গী।



